‘পদ্মাবতী’ বিতর্ক প্রতিদিনই নয়া মোড় নিচ্ছে। খোলা তলোয়ার নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো থেকে শুরু করে দীপিকার মুণ্ডচ্ছেদের হুমকি-কিছুই আর বাকি নেই।

এবার তা নিয়ে সরব হলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। শুক্রবার ভারতের নাহারগড় দূর্গে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ আবিষ্কার হয়। পাশেই পাথরে লেখা সুইসাইড নোট। যেখানে হুমকিও দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, ‘পদ্মাবতী’ নিয়েই যে বিক্ষোভ প্রতিবাদ-অগ্নিসংযোগে আটকে ছিল, তাই একজনের প্রাণ কেড়ে নিল। পরে অবশ্য জানা গেছে, আসলে এটি খুনের ঘটনা। সম্ভবত তা ঢাকতেই ‘পদ্মাবতী’র দিকে মনযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মন্তব্য আলিয়া ভাটের। তিনি জানান, যারা বিক্ষোভ-হুমকি দিচ্ছে, পরিবেশকে সন্ত্রস্ত করে তুলছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াতেই এই ফল। পরোক্ষে সরকারি উদাসীনতার দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ অভিনেত্রীর। বস্তুত এ অভিযোগ দেশবাসীর একাংশেরও। ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে পদ্মাবতীর পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানশালীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কর্ণী সেনা। তবে শুক্রবার ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল দিল্লি হাইকোর্টে, যা পত্রপাঠ খারিজ করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তল ও বিচারপতি সি হরি শংকরের ডিভিশন বেঞ্চ। ছবির বিরুদ্ধে আবেদনকারী অখণ্ড রাষ্ট্রবাদী পার্টির সদস্যদের আদালতে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। ছবি না দেখেই কীভাবে তা নিষিদ্ধ করার আবেদন জানাতে পারে কোনো সংগঠন? এই প্রশ্নই তোলা হয়। দেশবাসীর প্রশ্ন, যারা পদ্মাবতীকে সম্মান জানাতে গিয়ে একজন অভিনেত্রীর নাক কেটে দেওয়ার হুমকি দেন, তারা কি শাস্তির যোগ্য নয়?

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছিলেন, যদি প্রতিবাদীদের শাস্তি দিতে হয়, তাহলে বানশালীকেও দিতে হবে। কেন না মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলা করা অভ্যাস হয়ে গেছে পরিচালকের। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো একযোগে পদ্মাবতী মুক্তির বিপক্ষে। ভারতের সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, একে একে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এ নিয়ে মুখ খুলছেন। পাশে দাঁড়াচ্ছেন দীপিকা-রণবীর-শহিদের।