বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, ‘এখনকার ছাত্রছাত্রীরা পত্রপত্রিকা পড়ে না। দেশের অভ্যন্তরীণ কিংবা বহির্বিশ্বের খোঁজখবর রাখে না। সিলেবাসের বাইরে তাদের তেমন কোনও জ্ঞান নেই।’
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আব্দুল জলিল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ছাত্রছাত্রীদের পত্রপত্রিকা পড়ে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের খবর জানার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘সিলেবাসের বাইরে এখনকার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান না থাকার কারণ পাঠ্যবইয়ের বৃত্তেই বন্দি থাকে তারা। এজন্য অবশ্য ছাত্রছাত্রীরা নয়, দায়ী তাদের অভিভাবকরা। তারাই সন্তানকে পাঠ্যপুস্তকে ব্যস্ত রাখেন। এ কারণে সিলেবাসের বাইরে অন্যকিছু পড়ার সুযোগ হয় না তাদের।’
এ বছর মোট ১ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আছে প্রতিবন্ধীরাও। তাদের হাতে বৃত্তির চেক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। প্রথমেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে বৃত্তির চেক ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে ফজলে কবির বলেন, ‘আপনারা মেধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি কারও দয়া বা করুণা নয়। এর মর্যাদা রেখে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে হবে আপনাদের।’
বাংলাদেশ যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা উদ্যমী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন ফজলে কবির। তার কথায়, ‘চলতি বছরের শুরুতে দেশের হাওর অঞ্চলে ও মধ্যাঞ্চলে ৩২টি জেলায় বন্যা মোকাবিলা করেছে। সবশেষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করছে। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সরকারের একার নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব।’
দেশের ব্যাংকগুলোকে করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ঠিক রেখে অন্য খাতের ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকগুলো শরণার্থীদের পাশে এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদুল আহসান। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিলের চাওয়া ছিল মার্কেন্টাইল হবে বাংলার ব্যাংক। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেকটা সফল হয়েছি। তিনি নিয়মতিই প্রকৃত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা বলতেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংক সেই জায়গায় যেতে পেরেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পরিচালিত হয় জেনে প্রশংসা করেন গভর্নর ফজলে কবির। তিনি মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ সময় আরও ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাহিদ রেজা।





