‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা খান আতাউর রহমানকে নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে রাজাকার বলে মন্তব্য করেন নাট্যজন ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। তার এই মন্তব্যের প্রতিউত্তর দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য অভিনেতা ফারুক।

তিনি বলেছেন, “১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নির্ভর একটি ঐতিহাসিক সেলুলয়েডের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অবস্থার আলোকে এটি নির্মিত। অথচ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যে মন্তব্য নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু করেছেন তাতে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার চেতনার মূলে আঘাত করেছেন।’

সম্প্রতি নিউইয়র্কে অভিবাসীদের এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘খান আতা অনেক বড় শিল্পী কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি রাজাকার ছিলেন। আমি গৌরব করে বলবো আমি না হলে খান আতা মারা যায় ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে। ‘আবার তোরা মানুষ হ’এটাও একটি নেগেটিভ ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সে বলতেছে আবার তোরা মানুষ হ— ‘আরে তুই মানুষ হ’ তাই না। তুই মানুষ হ তুই তো রাজাকার ছিলি।’

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) ৩১তম সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। এই অনুষ্ঠানের বাইরে নিউইয়র্কে আয়োজিত ভিন্ন একটি সভায় তিনি যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশের অন্যতম অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। পরে এই অনুষ্ঠানের কিছু অংশের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি নিউজ পোর্টালেও প্রকাশ পায়।

বাচ্চুর এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, সে সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল সেটা যেমন আপনি (বাচ্চু) জানেন তেমনি আমরাও জানি। ছবিতে এতোদিন পর কি এমন পেলেন যে এটাকে নেগেটিভ মনে হল আপনার?’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আপনিও করেছেন আমরাও করেছি। তার মানে এই নয় যে আপনার কাছ থেকে জানতে হবে কে যোদ্ধা আর কে রাজাকার।’

যদি তাই হয় তবে নিজেকে পন্ডিত বলে জাহির করতে চাওয়া মি. বাচ্চু আপনিই বলেন, ‘কি কি কারণে কোন কোন পরিস্থিতিতে রাজাকার বলা যায়। খান আতার তেমন কি জানা আছে আপনার, সেটা প্রকাশ করুন। নইলে মুক্তিযোদ্ধারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

উল্লেখ্য, খান আতাউর রহমান ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। খান আতা একইসঙ্গে একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার এবং প্রযোজক। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা। চলচ্চিত্রকার এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’তার অভিনীত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র।

‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা’ (১৯৬৭) এবং ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ‘সুজন সখী’ (১৯৭৫) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পরে ‘এখনো অনেক রাত’ (১৯৯৭) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে নির্মাণ করেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’; যার বিষয়বস্তু ছিল যুদ্ধ পরবর্তী প্রেক্ষাপট।