জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনে বিগত বছরগুলোতে অনলাইন ভর্তি আবেদন ও টাকা পরিশোধ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পেয়ে আসছিল রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক।
তবে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ বেশির অজুহাতে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এর পরিবর্তে অনলাইন ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি) বিভাগ আর টাকা পরিশোধ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পেয়েছে ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং রকেট।
খোঁজ নিয়ে যায়, বিগত বছরগুলোতে পুরো আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রতি আবেদনে টেলিটক সার্ভিস চার্জ নিত ১০ শতাংশ হারে। এখন ডাচ-বাংলা ব্যাংককে শুধু টাকা পরিশোধ প্রক্রিয়ার জন্য দিতে হয় প্রতি আবেদনে পাঁচ টাকা করে। অনলাইন ভর্তি আবেদন পরিচালনার জন্য মোট আয়ের ৫ শতাংশ টাকা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগকে। এ বছর ভর্তি আবেদন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ফলে বাদ পড়ায় এ বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটক।
অন্যদিকে শুধু আবেদন ফরমের মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়ার জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংক পাবে ১৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আইআইটি বিভাগ পাবে ৭৫ লাখ টাকা।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাশ্রয় করতেই আবেদন প্রক্রিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিকে বাদ দিয়ে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগ ও ডাচ-বাংলা ব্যাংককে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেহেতু কিছুটা বেশি সার্ভিস চার্জ নিলেও ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হওয়া উচিত ছিল।
এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক বলেন, ‘টেলিটককে না দিলেও টাকা পরিশোধ প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় অন্য যে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে তো হতে পারত। যেমনটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের টাকা রাষ্ট্রীয় কোনো ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এতে টাকাটা রাষ্ট্র পেত।’
‘সাশ্রয় করার জন্য টেলিটককে বাদ দেওয়া হল, কিন্তু নিয়মানুযায়ী ভর্তি আয়ের যে ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে খরচ করার কথা সেটা তো প্রশাসন করে না। শিক্ষকরা ভাগাভাগি করে নিয়ে নেয়। যদি সাশ্রয় করে সে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় হতো তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু তা তো হয় না।’ যোগ করেন এ ছাত্র নেতা।
এ ব্যাপারে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘সার্ভিস চার্জের একটু এদিক সেদিক হলেও এটা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকেই দেওয়া উচিত। যেহেতু এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আছে। কারণ এতে মুনাফাটা রাষ্ট্র পেত, জনগণ পেত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন তো রাষ্ট্রই দেয়।’
টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এমন কোনো নিয়ম নাই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। সার্ভিস যার ভালো মনে হয়েছে তাকেই দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভর্তি আবেদন ফরম বিক্রি থেকে আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা কোষাগারে জমা দিতে ইউজিসির নির্দেশনা থাকলেও সেটি কখনই অনুসরণ করেনি জাবি প্রশাসন। ভর্তি পরীক্ষার খরচ বাদে যে টাকা থাকে তা নির্দিষ্ট হারে ভাগ করে নিয়ে নেন শিক্ষকরা।





