গতকাল ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেস অডিটরিয়ামে আন্তর্জাতিক একটি লোকসঙ্গীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী এবং প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

অভিনেত্রী শাওনের ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে যে- সম্মেলনটি তাকে বেশ অবাক করেছে, কেন না এই সম্মেলন গত ১৬ বছর ধরেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবারের সম্মেলন কোনো একজন গুণী লোকসঙ্গীত শিল্পী কিংবা গীতিকারের নামে উৎসর্গ করা হয়। বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আব্বাস উদ্দিনের মতোগুণী বাংলাভাষী ও বাংলাদেশি ব্যক্তিদের উৎসর্গ করা হয়েছে।

এবারের সম্মেলন উৎসর্গ করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদকে। হুমায়ূন আহমেদ তার নিজের সৃষ্টি চলচ্চিত্র কিংবা নাটকে বিরল সব লোকসঙ্গীত ব্যবহার করে শহুরে মানুষদের কাছে লোকসঙ্গীত পৌঁছে দিয়েছেন এবং নিজেও কিছু অসাধারণ লোকগান রচনা করে গিয়েছেন বিধায়, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই সম্মান দেখানো হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি।

মেহের আফরোজ শাওনের লেখা উক্ত স্ট্যাটাস থেকে আরও জানা গিয়েছে যে- উক্ত সম্মেলনে আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না। এছাড়াও আমেরিকান একজন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী ইউটিউব থেকে হুমায়ূন আহমেদের একটি প্রিয় গান তুলেছেন নিজের সেক্সোফোনে, যা মুগ্ধ করেছে মেহের আফরোজ শাওনকে।

মেহের আফরোজ শাওন নিজেও গান পরিবেশন করছেন উক্ত আয়োজনে। উক্ত সম্মেলনে সেক্সোফোন বাদকের পারফর্মেন্স দেখুন এখানে:আমার এবারের আমেরিকা ভ্রমনের উদ্দেশ্য ‘আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত সম্মেলন ২০১৭’ উদ্বোধন করা… মূলত বাংলা লোকসংগীত নিয়ে এই অনুষ্ঠান যার আয়োজক নিউইয়র্কের কিছু লোকসংগীত প্রেমী বাঙালীরা…

আমি অবাক হয়ে জানলাম এই সম্মেলন নাকি প্রায় গত ১৬ বছর ধরেই হচ্ছে..! প্রতিবারের আয়োজনই কোন একজন গুনী লোকসংগীত শিল্পী কিংবা গীতিকবির নামে উৎসর্গ করা হয় (পূর্ববর্তী আয়োজন গুলো রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, আব্বাসউদ্দিন এর মত ব্যক্তিত্বদের উৎসর্গ করা হয়েছে)…
এবারের সম্মেলন উৎসর্গ করা হলো হুমায়ূন আহমেদকে… নিজের সিনেমা এবং নাটকে বিরল সব লোকগান ব্যবহার করে বাংলা লোকসংগীতকে শহরকেন্দ্রিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং নিজের লেখা অসাধারন কিছু লোকগান বাংলার মানুষকে উপহার দেয়ার কৃতজ্ঞতা সরূপ হুমায়ূন আহমেদকে সম্মান জানানোর এই প্রচেষ্টা…

প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন এই তিন এর মাঝে সমন্বয়ের কিছুটা ব্যবধান থাকলেও আন্তরিকতার অভাব ছিলনা…
বক্তাদের মধ্যে দুই-তিনজন বাংলা লোকসংগীতে হুমায়ূন এর অবদানের কথা খুব গুছিয়ে বলেছেন… প্রবাসী বাঙালী শিল্পীদের কন্ঠে হুমায়ূন আহমেদের এর গান কিংবা হুমায়ূন সংগীতের সাথে কিশোরী নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনা খুব একটা নতুন না হলেও মুগ্ধ হয়েছি আমেরিকান একজন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্রে… তিনি ইউটিউব থেকে শুনে শুনে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় একটি গান s..phone এ তুলে ফেলেছেন..!
কি মুশকিল..! ভিনদেশী বাদ্যযন্ত্রেও এই সুর শুনে মনটা কেমন জানি করে…