ঢালিউড কিংবা টালিউড। দুই বাংলাই খ্যাতি অর্জন করেছেন প্রয়াত নায়ক রাজ রাজ্জাক। গত ২১ আগষ্ট (সোমবার) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নায়করাজের মৃত্যুতে শোকাহত চলচ্চিত্র পরিবার। রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোকাহত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। অভিনয় জীবনে অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন এই অভিনেতা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময় নায়করাজের মৃত দেহ নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। এফডিসিতে পড়ানো হয় নায়করাজের জানাজার নামাজ। এই প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বারের শ্রদ্ধা জানাতে এফডিসি প্রাঙ্গনে ছুটে আসেন সর্বস্তরের লোকজন। নায়করাজের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, খ্যাতিমান অভিনেত্রী শাবানা, অভিনেত্রী রজিনা, অভিনেত্রী ববিতা, বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, চিত্র নায়ক শাকিব খানসহ অন্যান্য শিল্পীরা।
শেষ বিদায়ে ভারি হয়ে উঠে এফডিসির আকাশ। সহকর্মীরা এই কিংবদন্তির বিদায় মেনে নিতে পারছেন না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সবাই। প্রবীণ থেকে তরুণ। সকল অভিনেতা-অভিনেত্রীর আদর্শ ছিলেন নায়করাজ। মহানায়কের শেষ বিদায়ে এফডিসি চত্ত্বর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মহানায়কের জানাজার নামাজের শেষে এফডিসি চত্ত্বরে বিডি২৪লাইভ’র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগের সাথে কথা হয় প্রবীণ অভিনেতা আহমেদ শরীফ, জনপ্রিয় অভিনেত্রী সিমলা ও জনপ্রিয় অভিনেতা সুব্রত বড়ুয়ার।
আহমেদ শরীফ বলেন, ‘রাজ্জাক ভাই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আর আমি তখন সাধারণ সম্পাদন ছিলাম। তিনি আমাকে সব সময় ভালো পরামর্শ দিতেন। আমি শুধু এতটুকু বলব, আল্লাহ রাজ্জাক ভাইকে জান্নাতে জায়গা করে দিন। আপনারাও তার জন্য দোয়া করবেন। রাজ্জাক ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই এটা ভাবতেই পারছি না। (এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন)। রাজ্জাক ভাই এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। তারপরও তার মৃত্যু বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি ঘরে বসে দুটো কথা বললেও সেটা আমাদের মাথার মণি হয়ে থাকত। চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে তার কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল’।
অভিনেত্রী সিমলা বলেন, ‘নায়করাজ রাজ্জাক স্যার ছিলেন আমাদের অবিভাবক। ওনার চলে যাওয়া আমি মানতে পারছি না। আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কখনও পুষাবে না। আমার সৌভাগ্য হয়নি এই মহানায়কের সাথে একই ফ্রেমে কাজ করার। আমি রাজ্জাক স্যারের সাথে টিভি পর্দার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম। ওনাকে নিয়ে বলার মত যোগ্যতা আমার নাই। আমি ওনার বিদেহী আত্ত্বার মাগফিরাত কামনা করছি’।
অভিনেতা সুব্রত বড়ুয়া বলেন, ‘রাজ্জাক ছিলেন আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমরা একজন নেতা হারালাম। আমরা মর্মাহত, শোকাহত। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করেছেন। শেষদিন পযর্ন্ত আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি ভেবেছেন’।





