বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাক সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। প্রিয় এ মানুষটির মৃত্যু খবরে অনেকেই ছুটে গেছেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসাপালে। এর মধ্যে ছিলেন রাজ্জাকের চলচিত্রাঙ্গনের সহকর্মীরা।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলেন আলমগীর, ফেরদৌস, মুশফিকুর রহমান গুলজার, খোরশেদুল আলম খসরু, শাকিব খান, ফেরদৌস, ওমর সানী, মৌসুমী, সাইমনসহ অনেকে। ইউনাইটেড হাসপাতালে উপস্থিত অনেক চোখ ভিজে উঠেছিল কান্নায়। ভক্ত ও তাদের বিমর্ষ উপস্থিতিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহযোদ্ধারা।
এদিকে কিংবদন্তি এই অভিনেতার মৃত্যুতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার ছেলে খালিদ হোসেইন সম্রাট। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি বিডিমর্নিং-কে বলেন, ‘আপনারা আব্বার জন্য দোয়া করবেন। এখন দোয়া ছাড়া কিছু করার নেই। বড়ভাই (বাপ্পারাজ) দেশের বাইরে। তার সঙ্গে কথা বলে দাফন ও অন্যান্য বিষয়ে রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাংলা চলচ্চিত্রকে অন্যন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এ মানুষটির জন্ম পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে । নায়করাজ রাজ্জাক নামে সুপরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম ছিল আব্দুর রাজ্জাক। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু। সরস্বতী পূজার সময় মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তাঁর গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।
রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহিতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।
তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক।
পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ‘টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।





