নীলা চৌধুরী, জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রয়াত সালমান শাহ্’র ‘মা’। ছেলের মৃত্যুর ২১ বছর হয়ে গেলেও আজও বিচারের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রজন্মের সকল শিল্পীদের সাথে বসার আহ্বান জানান।
তিনি ১৪ আগষ্ট (সোমবার) নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি বার্তা পোষ্ট করেন। যেখানে লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম, আমি সকল শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সাথে বসতে চাই। কখন কিভাবে বসা যায় আমার সাথে। শাকিবকে বলছি আমার সাথে কথা বলো। তোমরা আমার সালমান শাহ্’র মত আমার কাছে মূল্যবান। আমি বর্তমান প্রজন্মের সকলের সাথে বসতে চাই। তোমরা ব্যবস্থা করে আমাকে জানাও”।
এমন স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে বিডি২৪লাইভ’র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আরেফিস সোহাগ যোগাযোগ করেন নীলা চৌধুরীর সাথে। তিনি আলাপকালে বলেন, ‘আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। লন্ডনের ডাক্তার আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছে। আমি আজকেও (সোমবার) ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। আমি চলচ্চিত্রের সকলকে নিয়ে বসতে চাচ্ছি। যদি তারা না বসে আমার কোন দুঃখ নাই। আমি অপেক্ষায় আছি দেখি কি হয়। আমি এখন পর্যন্ত কারো কোন সাড়া পাইনি’।
নীলা চৌধুরীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিডি২৪লাইভ যোগাযোগ করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং বাংলা চলচ্চিত্রের খল-নায়ক মিশা সওদাগরের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাচ্ছি না। আমি শুটিং থেকে এসেছি অনেক ক্লান্ত’।
বিডি২৪লাইভ যোগাযোগ করে চলচ্চিত্র অভিনেতা ওমর সানির সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি ওনাকে (নীলা চৌধুরী) সম্মান করি। কিন্তু ওনি গণহারে সবার সাথে কথা বলতে চাইলে তো হবে না। আমার মনে হয় ওনি যদি প্রতিটি ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে বার্তা পাঠান তাহলে সবাই সাড়া দিবেন’।
মিশা সওদাগর এবং ওমর সানির বক্তব্যের ভিত্তিতে আবারো নীলা চৌধুরী সাথে যোগাযোগ করে বিডি২৪লাইভ। এবার বিষয়টি স্পষ্ট করে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো শিল্পীদের কাছে সালমান হত্যার বিচার চাচ্ছি না। আমার সালমানের বিচার শিল্পীরা করতে পারবেন না। আমার ছেলের সহ-শিল্পী হয়ে অনেকে কাজ করেছেন তারা আমার ছেলের মত। আমি সুখ-দুঃখ নিয়ে কথা বলার জন্য এফডিসিতে যাবো না। আমার ছেলের নাম এফডিসিতে নাই। আমার তাতে কোন আক্ষেপ নাই। কিন্তু আমার ছেলের জন্য অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী কেঁদেছে বা কাঁদছে। আমি তাদের সবার সাথে এই কারণে কথা বলতে চেয়েছিলাম’।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পরলোক গমন করেন। রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে তাঁর নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি। অনেকেই সালমান শাহ-এর মৃত্যুর জন্য তাঁর স্ত্রী সামিরার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এমনকি পরবর্তীকালে সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী সামিরা ও আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় কিন্তু পরে এই মামলার আর কোন অগ্রগতি হয়নি ফলে সালমানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আর উদঘাটিত হয়নি।





