সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে হঠাৎ সরগরম হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। আর সেটা শুরু হয় গত সোমবার জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রুবির একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রুবি সেদিন তার ভিডিও ফুটেজে বলেন, ‘আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছিলেন সালমান শাহ এবং তা করিয়েছিলেন তারই স্ত্রী সামিরা হকের পরিবার। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহকে খুন করা হইছে, আমার হাজব্যান্ড এটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডকে দিয়ে। আর সব ছিল চাইনিজ মানুষ।’

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিরা বলেন, ‌‘মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, শাবনূরকে নিয়ে দুশ্চিন্তা, এফডিসি থেকে কিছু সংগঠন দ্বারা বয়কট হওয়ার প্রেশার, শাবনূরসহ আরও কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার সঙ্গে খানিকটা মতবিরোধ- ইত্যাদি কারণে মানসিক চাপে ছিল সালমান। মাঝখানে গাড়ি দুর্ঘটনাও হয় তার। সবকিছু মিলিয়ে ও বিধ্বস্ত ছিল। মৃত্যুর আগের কয়েকটা দিন বারবার শুধু সরি বলত আমার কাছে। আমাকে খুশি রাখার চেষ্টা করত। আমি ভাবিইনি এমন কিছু হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শেষবারের মতো আমরা গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে যাই। সে ক্লান্ত ছিল। বিছানায় শুয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমাচ্ছিল। আমি নিচে ছিলাম। গানের ক্যাসেটের একপাশ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাকে বলল ‘ক্যাসেটটা উল্টে দাও’। সেটাই শেষ কথা। কে জানত তারপর এত কিছু হবে। উল্টে যাবে আমার জীবনের গতিটাও।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে। সালমান মৃত্যুর ২১ বছর পার হলেও এই রহস্যের জট আজ পর্যন্ত খোলেনি। এই মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে কোথাও মুখ খোলেননি সামিরা ও তার পরিবার।