উত্তরের কলেজ স্ট্রিট৷ দক্ষিণের যাদবপুর৷ অথবা ভবানী ভবন চত্বর থেকে শুর করে শ্যামবাজার পাঁচ রাস্তার মোড়৷ গোটা শহর জুড়ে পোস্টারে ছয়লাপ ধনঞ্জয়। ১৩ বছর আগের সেই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে ফের কেন হইচই? নিশ্চই আপনার মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে তার সন্দেহ৷

না, বছর ১৩র সেই পুরনো শরীরিক নিযার্তনের ঘটনায় ধনঞ্জয়কে নিয়ে কোনও নাগরিক সমাজ সোচ্চার হয়নি৷তবে ধনঞ্জয়কে নিয়ে আপনার সব সন্দেহ দূর করে দেবেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তি। মনে মনে হয়ত এটাও ভাবছেন কীভাবে মিমি আপনার সন্দেহ দূর করবে? শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে অরিন্দম শিল পরিচালিত মিমি এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য অভিনীত ছবি ‘ধনঞ্জয়’। আর এই ছবির মধ্যে দিয়েই আপনার সব সন্দেহ দূর করে দেবে মিমি।

প্রায় ১৩ বছর পরে উঠে আসা এই নামটা এখনও যেন টাটকা সকলের মনে৷ যার ফাঁসি নিয়ে তৈরি হয়েছিল চরম বিতর্ক। সেই ধনঞ্জয়ের আইনজীবী হিসেবেই দেখা যাবে টলি কুইন মিমিকে। এই প্রথম অন্যধরনের একটি চরিত্রে দেখা যাবে মিমিকে। বরাবরই তাঁকে কমার্শিয়াল ছবিতেই বেশি দেখা গিয়েছে। আর এবার বাস্তব কাহিনি নিয়েই তৈরি হতে চলেছে অরিন্দম শীল পরিচালিত ছবি ‘ধনঞ্জয়’। আর সেই ছবিতেই নতুন লুকে পাওয়া যাবে মিমিকে।

হেতাল পারেখকে শরীরিক নিযার্তন ও হত্যার জন্য ১৯৯০ সালের ১ জুলাই ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ধনঞ্জয় একজন নিরাপত্তা রক্ষী ছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৫ অগাস্ট। ২০০৪ সালের প্রথম দিকে, ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং এবং অবশেষে ফাঁসির নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই গল্পের উপর ভিত্তি করেই অরিন্দম শীলের পরবর্তী ছবি তৈরি হচ্ছে। একেবারে গোয়েন্দা ছবির বাইরে গিয়ে অন্য রকম ভাবনাকে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন অরিন্দম শীল।

ধনঞ্জয়ের চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে। এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম মৃত্যুঞ্জয়। এই ছবিতে রয়েছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে দর্শকেরা দেখতে পাবেন মৃত্যুঞ্জয়ের বাবার ভূমিকায়। হেতাল পারেখের চরিত্রে দেখা যাবে অনসুয়া-কে। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও দক্ষ, তাই অরিন্দম শীলের অনুরোধে তিনি এই ছবিতে পুলিশকর্মী হিসেবে অভিনয় করছেন বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় অর্থাৎ অনির্বাণ ভট্টাচার্যের স্ত্রী’র ভূমিকায় রয়েছেন আর্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটিতে সুপ্রিম কোর্টের উকিলের চরিত্রে দেখা যাবে হর্ষ ছায়াকে। এছাড়াও ছবিতে রয়েছেন সুদীপ্তা।

ছবির সুরকার বিক্রম ঘোষ। দিল্লি, মুম্বই, বাঁকুড়াসহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় চলবে ছবির শ্যুটিং। এরকম নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করতে ভীষণই ভাল লাগে অনির্বাণের। বাস্তবে তো আর নেগেটিভ হয়ে ওঠা হয়না তাই সিনেমায় নেগেটিভিটি টাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়, এমনটাই জানালেন অনির্বাণ।