প্রতি বছরই ফল প্রকাশের পর এরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে আসছে । যদিও আত্নহত্যা কখনো সমাধান নয় তবুও প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারেও এখন পর্যন্ত তিন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কীটনাশক পান করে চট্টগ্রামে এক শিক্ষার্থী ঢাকায় এক ও কিশোরগঞ্জে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
ঢাকায় উকুন মারা ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যাকারী ছাত্রীর নাম জান্নাতুল নাঈমা ইতি (২০)। চট্টগ্রামে রেজাল্টের পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অপর্না চৌধুরী নামের এক শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জে আলিম পরীক্ষায় ফেল করে নাঈমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
আজ রবিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় জান্নাতুল নাঈমা ইতির । তার মরদেহ ঢামেকের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
মৃত জান্নাতুল নাঈমার বড় বোন শারমিন আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, নাঈমা ইতি এবার রামপালের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কয়েকদিন আগে আমার বড় মগবাজারের আমবাগানের বাসায় বেড়াতে আসে। আজ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পর মনমতো ফল না হওয়ায় সবার অজান্তে ঘরে থাকা ঊকুন মারা কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নাঈমা ইতি বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাশখালী গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাঈমার মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা রয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার খবর মানতে না পেরে আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানা এলাকার গোছিবাগান এলাকায় নিজের বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে অপর্না চৌধুরী (১৭) আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ জানায়।
অপর্না নগরীর এনায়েতবাজার সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে পরিবারের সাথে গোয়াছিবাগান এলাকার ১৬ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতো।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ফলাফল প্রকাশের পর অপর্না ফেল করেছে বলে জানতে পারে। এরপর থেকে সে বিষন্নতায় ভুগতে থাকে। পরে নিজের বাসার পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
তিনি জানান, পরে তাকে ফ্যানের সাথে ঝুলতে থাকতে দেখে তার স্বজনরা উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্য ঘোষণা করেন। সে পরীক্ষায় অনেক ভালো ফলাফল করার আশায় ছিল বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে।
অপর্না চৌধুরী গোয়াছিবাগান এলাকার মৃত বজহরি চৌধুরীর মেয়ে বলে জানা গেছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় একজন ছাত্রী ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পেয়েছি। তার লাশ বর্তমানে চমেক হাসপাতালে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমকে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা মৃত, মা বেঁচে আছে। তারা স্বপরিবারে গোয়াছিবাগান এলাকায় থাকতো।’
কিশোরগঞ্জে পরীক্ষায় ফেল করে মাদ্রাসাছাত্রীর গলায় ফাঁস
কিশোরগঞ্জে আলিম পরীক্ষায় ফেল করে নাঈমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার বিকালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নাইমা আক্তার দাপুনিয়া গ্রামের মৃত মাওলানা সোহরাব উদ্দিনের মেয়ে এবং ডাহরা গোলপুকুর পাড় সৈয়দুন্নেছা আলিম মাদ্রাসার ছাত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার খবর পেয়ে নাঈমা আক্তার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে বাড়ির লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
হোসেনপুর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।





