উল্টো পথে বাস চালাতে বাধা দেওয়ার জের ধরে পুলিশ সার্জেন্টকে মারধরের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

লাঞ্চিত সার্জেন্ট কাওসার হামিদ বাদী হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতনামা ছাত্রের বিরুদ্ধে ১৮ জুলাই’১৭ দুপুর ১টায় রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার বলা হয়, ‘গত ১৭ জুলাই’১৭ তারিখ বিকাল ৫ টায় বাংলা মটর ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট কাওসার হামিদ। এ সময় রূপসী বাংলা ক্রসিং হতে ফার্মগেইট যাওয়ার পথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বহনকারী ডাবল ডেকার ৩ টি বিআরটিসি বাস বিকাল ৫ টার সময় বাংলা মটর ক্রসিংয়ে এসে পৌঁছায়। পৌঁছানোর পর রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম দেখে ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা না করে উল্টো দিকে যাওয়ার জন্য ডাবল ডেকার বাসের সামনের অংশ বিপরীত লেনে ঢুকায়।
এসময় দায়িত্বরত সার্জেন্ট বাসকে উল্টো পথে না যেয়ে সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু বাস তিনটি উল্টো পথে দাঁড়িয়ে গাড়ি চলাচলের পথ আটকিয়ে রাখে। গাড়ীর চালককে দ্রুত গাড়ী সরিয়ে তাদের সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলতে না বলতে অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জন ছাত্র ডাক চিৎকার দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে সার্জেন্টের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং উল্টো পথেই তাদেরকে যেতে দিতে হবে বলে জোরজবরদস্তি করতে থাকে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একাংশ
ইতোমধ্যে বাংলা মটর হতে ফার্মগেইট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে সার্জেন্ট পুনরায় গাড়ী ৩ টিকে সঠিক পথে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। উল্টো পথে তাদেরকে যেতে না দেয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জন ছাত্র সার্জেন্টাকে ঘিরে ধরে এলোপাতারী মারধর শুরু করে এবং পরিহিত ইউনিফর্মের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে ফেলে। তাৎক্ষণিক কর্তব্যরত টিআই, সার্জেন্ট ও ট্রাফিক কনস্টেবল এসে উক্ত সার্জেন্টকে ছাত্রদের হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নিজের দায়িত্বের প্রতি অটল থেকে এক পাও সরেননি সার্জেন্ট কাওসার হামিদ। সঠিক পথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বহনকারী বাসগুলো যেতে বাধ্য করেন তিনি।’

তবে সার্জেন্ট কায়সার হামিদ মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে সময় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস উল্টো দিকে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে বাগি¦তা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হালকা ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বাস থেকে আরও ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী এসে বিষয়টি মীমাংসা করে তারা চলে গেছেন।’ ওই সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে মারধরের বিষয়টি নিয়ে বির্তক চলছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাই তারা আজ এ মামলা প্রত্যাহার করার জন্য ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।