ব্রেনে স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইল করে মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে অসুস্থ্য অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন কাঙ্গালিনি সুফিয়া। বর্তমানে মুমুর্ষ অবস্থায় তিনি হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তবৃন্দরা তাকে এক নজর দেখার জন্য ভীর করছেন হাসপাতালে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আগের চেয়ে এখন কিছুটা সুস্থ্য বোধ করলেও তার গলায় ব্যাথা এবং প্রেসার অনেক বেশী হওয়ায় নিয়ন্ত্রনের জন্য ঔষধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত কারনে হার্টসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

কাঙ্গালিনি সুফিয়ার পাশে থাকা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সঙ্গীতের প্রথম ছাত্র রবিন্দ্র সঙ্গীতের শিল্পী এ্যাপোলো জামালি বলেন, তার অসুস্থ্যতার খবর শুনে আমরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। গত দুই দিন ধরে তার পাশে থেকে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আমরাও তাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা এবং মানসিকভাবেও সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করছি।

কাঙ্গালিনি সুফিয়ার চিকিৎসার দায়িতে থাকা ডা: মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সে ব্রেনে স্টোক এবং হার্ট ফেইলোর হয়েছিলো, তার গলায় ব্যাথা এবং প্রেসার অনেক বেশী হওয়ায় নিয়ন্ত্রনের জন্য ঔষধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার সকল প্রকার চিকিৎসা নিশ্চিত এর জন্য হাসপাতালের কার্ডিওলোজী, নিউরোলোজীসহ প্রতিটি ইউনিটের চিকিৎসকরা সচেষ্ট রয়েছে। কাঙ্গালিনি সুফিয়া আমাদের দেশের একজন বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী হওয়ায় আমরা হাসপাপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছি।

কাঙ্গালিনি সুফিয়ার সাথে গান করা নাতি গিটার বাদক সোহান যাযাবর বলেন, আমি নানীকে শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবেসে তার সাথে গান করি। কাঙ্গালিনি সুফিয়া একজন আন্তর্জাতিক শিল্পী এবং দেশের সম্পদ। আমরা চাই সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তিনি উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়ে দ্রুত সুস্থ্য হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।

কাঙ্গালিনি সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প আক্তার বলেন, মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ্য মাকে নিয়ে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তখন মায়ের গলা ব্যাথা ও বমিসহ মাথা ব্যাথা ছিলো। এছাড়া তার স্মৃতিশক্তিও লোপ পাওয়ায় সে কাউকে চিনতে পারছিলোনা। দুইদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার বর্তমানে অবস্থা একটু ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু গত দুই দিনে মায়ের পাওয়া অনুদানের টাকাসহ ধারদেনা করে প্রায় বিশ হাজার টাকা বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষা এবং ঔষধের পিছনে খরচ হয়ে গেছে। এসময় তিনি অভিযোগ করেন মায়ের অসুস্থ্যতার খবর শুনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তার ভক্তবৃন্দরা হাসপাতালে ছুটে আসলেও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এখনও তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেনি কিংবা তার খোজ খবর নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেননি।

এব্যাপারে জানতে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, বাউল গানের শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রাম্য একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই সময়ই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ডি.জি. মুস্তফা মনোয়ার তার উপাধি দেন ‘কাঙ্গালিনী’। সেই থেকে তিনি কাঙ্গালিনী সুফিয়া নামে পরিচিতি পান। সঙ্গীতে এযাবৎ তিনি প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। গান রচনা করেছেন প্রায় ৫০০টি। তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় আছে- ‘পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারনে’, ‘কোন বা পথে নিতাই গঞ্জে যাই’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ প্রভৃতি।