কেমন হয় ‘সিঙ্গল’ মেয়েদের প্রেম-ভালবাসার জগৎ? হয়ত জানেন কিছুটা, কিন্তু বোঝেন অনেক কম। লেখিকা শ্রীময়ী পিউ কুণ্ডুর নতুন বই ‘স্টেটাস সিঙ্গল’-এ উঠে এল এমন অজানা কাহিনি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
৩৮ বছরের ডিভোর্সি পিয়াসি সেনচৌধুরী। তাঁর থেকে ১০ বছরের বড়, একজন বিবাহিত সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সহকর্মীরও এর আগে দু’বার ডিভোর্স হয়েছে। মহিলা জানেন, তাঁর বয়ফ্রেন্ড কোনওদিন নিজের স্ত্রীকে ছেড়ে আসবেন না। কিন্তু তাতেও কোনও অসুবিধা নেই পিয়াসির।
তাঁর কথায়, আমি একা থাকি। ও আমার শারীরিক এবং মানসিক চাহিদা মেটাচ্ছে। এটাই আমার কাছে মুক্ত বাতাসের মতো। আমি আবার বিয়ের রাস্তায় যেতে চাই না।
সম্পর্ক হোক বা সেক্স— টিন্ডারের মতো ডেটিং অ্যাপের যুগে শহুরে একলা মেয়েদের মনের জড়তা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ইচ্ছেমতো সেক্স-লাইফ ও সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বেড়েছে।
পিয়াসির মতো মহিলারা কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে তাঁর বিবাহিত বয়ফ্রেন্ডের উপরে নির্ভরশীল নন। নিজেকে ‘সতীন’ হিসেবেও দেখতে চান না বা ‘মিস্ট্রেস’ বলেও মনে করেন না।
শুধু পিয়াসি নন। বেঙ্গালুরুর একটি আর্ট ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ৪৫-বছর বয়সি অরুন্ধতী ঘোষ আবার বিশ্বাস করেন বহুগামিতায়। একই সময়ে একাধিক শহরের একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় তিনি বিশ্বাসী।
এটাকে তিনি তাঁর চরিত্রের স্বাভাবিক প্রকাশ বলেই মনে করেন। পিয়াসি হোন বা অরুন্ধতী, এমন প্রায় তিন হাজার একলা মেয়ের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়েই লেখিকা শ্রীময়ী পিউ কুণ্ডুর সাম্প্রতিক সাহসী বই ‘স্টেটাস সিঙ্গল’ (প্রকাশক: অ্যামারিলিস)।
যিনি নিজেও ৪০-এ পা দিয়েও ‘সিঙ্গল’। কলকাতার মেয়ে শ্রীময়ী এই শহরে বেড়ে উঠলেও দিল্লিতে পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন কর্মজীবনের অনেকটা।
তিনিই বলছেন, তবে এমনটা মনে করার কারণ নেই যে, ‘সিঙ্গল’ মহিলা মানে শুধুই খুল্লামখুল্লা সম্পর্ক আর সেক্সের গল্প। এর বাইরেও একলা মেয়েদের একটা জগৎ রয়েছে। যা আমরা দেখেও দেখি না।
‘শুধুই সিঙ্গল মেয়েদের সেক্স বা প্রেমের জীবন নিয়ে এই বই নয়। আমি তা লিখতেও চাইনি। তাঁদের ইচ্ছে, সমস্যা, দৈনন্দিন খুঁটিনাটি নিয়েই এই লেখা, বলছেন কলকাতার মেয়ে শ্রীময়ী।
তাঁর বইতে শ্রীময়ী লিখেছেন দেশের জনসংখ্যার ২১ শতাংশই ‘সিঙ্গল’ মহিলা। আর এঁদের মধ্যে কেউ নিজের ইচ্ছেতে একলা, আবার কেউ বাধ্য হয়ে।
৩০-এর কোঠায় পা দিয়েও যদি কোনও মেয়ে অবিবাহিত থাকেন, তাহলেই তাঁকে ‘সিঙ্গল’ ধরে নেওয়ার রেওয়াজ ভারতীয় সমাজেই। এখান থেকেই শুরু নানা ‘অত্যাচারের’ কাহিনি।
থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই একলা মেয়েদের মনের জোরের উৎস।





