কয়েক সপ্তাহ ধরে সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনায় এক সময়ের ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় একজন মুখ ছিলেন ইপ্সিতা শবনম শ্রাবন্তী। অভিনয় ছেড়ে তিনি বিয়ে করে পাড়ি জমান আমেরিকায় তবে সম্প্রতি তিনি তার সংসার জীবন নিয়ে বেশ অশান্তির মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন এ অভিনেএী।জানা গেছে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

২০১০ সালের অক্টোবর মাসে অভিনেত্রী ইপশিতা শবনম শ্রাবন্তীকে বিয়ে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে রাবিয়াহ আলমের বয়স ৭ আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সাড়ে ৩ বছর।

শ্রাবন্তীকে বিচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়েছেন তার স্বামী খোরশেদ আলম। এই নিয়ে বেশকিছু আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। শ্রাবন্তী নিজেই বলেছেন-‘ভুল আমার হতে পারে, ক্ষমা করে দাও, একসঙ্গে না হয় অন্তত একঘরে বসবাস করার সুযোগ দাও।’

কী এমন ভুল করেছেন শ্রান্তবী, যার ফলে ছোট্ট দুটি সন্তানের টানও আলমকে তার কাছে ফিরিয়ে আনতে পারছে না? প্রথমবারের মতো দীর্ঘ ও খোলাসা কথা ‘বলা না বলা’কে বলেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম।

‘শ্রাবন্তীর সঙ্গে প্রথমদিকে আমার সংসার অনেক সুখের ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর আমি বুঝতে পারলাম পার্থ বড়ুয়াও কেন তার সঙ্গে সংসার করতে পারলেন না। শ্রাবন্তী অনেক বেশি জেদি, আক্রমণাত্মক আর লোভী।

আমি এনটিভি আর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে চাকুরী করে খুব ভালোই আয় করতাম। কিন্তু শ্রাবন্তীর আবদার আর বিলাসিতা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হতো। একসময় সিদ্ধান্ত নিলাম, আরও রোজগার করার জন্য চাকুরী ছেড়ে আমেরিকা চলে যাবার। সেখানে গিয়ে প্রথম দিকে একটু বিপাকেই পড়ে গেলাম। পরে ধার দেনা করে বাড়ি গাড়ি কিনলাম।

দিনদিন শ্রাবন্তীর অত্যাচার আর আচরন আরও রুঢ় হতে থাকলো। কয়েক বছর পর আমি ওদের আমেরিকা রেখে বাংলাদেশে চলে আসি। ফের যোগ দেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার ইচ্ছে ছিলো বছরে দুইবার আমেরিকা গিয়ে ওদের সঙ্গে সময় কাটাবো। আর ঢাকা থেকে ওদের খরচাপাতির ব্যবস্থা করবো। কিন্তু আমি তারপরও শ্রাবন্তীর চাহিদা পূরণ করতে পারছিলাম না।

তার চাহিদার মাত্রা এমন যে আমার মনে হয় শিল্পপতি ছাড়া আমার মত সাধারন চাকুরীজীবির পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিদিন টেলিফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতো। হুমকি ধামকি দিতো। হঠাৎ সে আমাকে না জানিয়ে ঢাকায় চলে আসে, জানতে পারি সে আমেরিকায় আমার লোন করে কেনা বাড়ি আর গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে।

এ নিয়ে তারসঙ্গে বচসা হয়। এরপর শ্রাবন্তী রীতিমত আমাকে শারিরিক নির্যাতন করেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আর তেমন কিছু বলতেও আমার লজ্জা লাগছে। শেষ পর্যন্ত আমি বাধ্য হয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেই।

তালাকের নোটিস পাবার পর শ্রাবন্তী এক দিকে ফেইসবুকে মানবিক আবেদন করছে, অন্যদিকে আমাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। রীতিমত মামলা আর জেল খাটানোর হুমকি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি গত কয়েক সপ্তাহ শ্রাবন্তী বা তার সংশ্লিষ্ট কারও ফোন ধরছি না। আমার মত চুপচাপ আছি। আর কিছু বলতে চাই না।

দুই মেয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম বলেন, ওরা আমার সন্তান। আমারও মন কাদছে তাদের জন্য। নিজেকে বুঝিয়ে রেখেছি। হ্যা, নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছেদের পর যেভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় সেভাবেই আমি দায়িত্ব পালন করে যাবো। আর শ্রাবন্তী যদি স্বেচ্ছায় আমাকে আমার মেয়েদের দিয়ে দেয় আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।

অন্য একজন তরুণীর সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে একটি গুঞ্জন রটেছে, এ বিষয়ে আপানার মন্তব্য কি? জানতে চাইলে খোরশেদ আলম বলেন, আমি দেশের অন্যতম সেরা একটি টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান বিভাগে উচ্চপদে কাজ করেছি আমার তরুণ বয়সে অনেক বছর। কেউ আমার নারী ঘটিত বিষয়ে কোন অভিযোগ করতে পারবে না। আর এখনতো পড়ন্ত বয়স- আসলে এগুলো সব বানোয়াট কথা।

অপরদিকে নায়িকা শ্রাবন্তীর বক্তব্য ভিন্ন,আমার সংসারটাকে রক্ষা করতে সাহায্য করুন। আমি এখনো জোর গলায় বলতে চাই, আমার সাথে আমার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। এই জাতি যেন অন্যায়কে সাপোর্ট না করে।’এভাবে আকুতি করেন এ অভিনেএী।এরি মধ্যে নায়িকা প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কমনা করেছেন।শ্রাবন্তী চচ্ছেন যে ভাবেই হোক তার সংসারটা টিকাতে।