মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা অপর কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। এর পরদিন আদালত তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সেই থেকে কারাগারে দিন কাটছে আসিফের। এদিকে শোনা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে মিমাংসায় বসতে চাইছেন সংগীত জগতের সিনিয়র শিল্পীরা। যদিও এখনো এমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে আসিফকে ঈদের আগে কারামুক্ত করতে একাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তার স্ত্রী সালমা আসিফ মিতু। তিনি হাঁটছেন আইনের রাস্তায়। এরইমধ্যে কারাগারে আসিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও এসেছেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে রবিবার দুপুরে কথা বলেন তিনি:

কেমন আছেন?
জ্বী, ভালো আছি।
আজকে শুনলাম আসিফের জামিন আবেদন করেছিলেন?
না। জামিন আবেদন করার কথা ছিলো, কিন্তু আজকে করেনি। কেনো করেননি এটা আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবী ভালো বুঝবেন। তিনি হয়তো ভালোর জন্যই আজকে আবেদন করেননি। কালকে বা পরশু যেদিনই তিনি ভালো মনে করেন সেদিনই হয়তো করবেন। আজকে আবেদন করার কথা ছিলো, কিন্তু করেনি। আজকে প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিন করবে।

আসিফ কারাগারে যাওয়ার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে সংগীতের মানুষের মধ্যে। সিনিয়রদের মধ্যেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। এমন উদ্যোগের কথা শুনেছেন কিনা?
আমি এটার কিছু জানি না। তবে অনেক সিনিয়রই আমাকে ফোন করেছিলেন। দিনাত জাহান মুন্নী, বকুল ভাই, পিন্টু ভাই-এরকম অনেকেই আমাকে ফোন করেছিলেন। যেনো বসে মিটমাট করে ফেলি। তো আমি আসলে এমন বসাবসিতে ইন্টারেস্টেড না। শফিক তুহিনের সাথে এভাবে বসা যায় না। আর তার(শফিক তুহিন) সাথে আমাদের সম্পর্কটাও আসলে ওরকম না। তুহিন আমাকে একবার ইনফর্ম করতে পারতো যে তাদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেতো আমাকে কখনোই এসব নিয়ে কিছু বলেনি। কিছু না বলেই এরকভাবে আসিফের বিরুদ্ধে একটা মামলা করে দিলো! পুরো বিষয়টা আসলে স্বাভাবিক না।

তো এখনতো শফিক তুহিনও বলছেন, আসিফের জামিনের বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন?
এটা শফিক তুহিনের অভিরুচি। আমি এ ব্যাপারে তুহিনের সাথে কোনো কথা বলিনি বা কোনো মতামতও পেশ করিনি। ওনার সাথে বসার প্রশ্নই আসে না। বসা যায় না। ধরুন, আপনি আমাকে একটা চড় দিলেন এবং তারপর বললেন ‘সরি’! আপনি জানেন, আপনি আমাকে চড় দিতে পারেন না। এটা কি হয় বলেন!

এখন শফিক তুহিন যদি চায় যে আসিফের জামিন হোক, সেটা শফিক তুহিনের বিষয়। কীভাবে জামিন হবে সেটা সে বুঝবে। কিন্তু আমার যে অ্যাডভোকেট আছেন তিনি তার মতো চেষ্টা করছেন। এখন দেখা যাক। আইনে যদি থাকে ঈদের আগে আসিফের জামিন সম্ভব, তাহলে সম্ভব।

তবে এটা ঠিক, অনেক সিনিয়ররা ফোন করে আসিফের বিষয়ে আপডেট নিয়েছে। জুনিয়ররাও করেছে। কর্ণিয়া, কোনাল এরাও ফোন করে আপডেট নিয়েছে।

তার মানে আপনারা চাচ্ছেন না শফিক তুহিনের সাথে বসতে?
আমি এবং আমার ফ্যামিলি চাচ্ছি না শফিক তুহিনের সাথে এ বিষয় নিয়ে বসতে। অন্যকেউ যদি নিজের প্রয়োজন বোধ করেন এই সংক্রান্ত বিষয়ে শফিক তুহিনের সঙ্গে বসতে তারা বসতে পারেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি বা আমার পরিবারের কেউ চাইছি না।

আসিফ কারাগারে যাওয়ার পর তার সাথে আপনার দেখা হয়েছে?
হ্যাঁ। আমি কারাগারে গিয়ে দেখা করে এসেছি। আমি, আমার পরিবার সবাই গিয়েছিলাম তার সাথে দেখা করতে। কথা বলেছি।

শোনা যাচ্ছিলো, কারাগারে যাওয়ার পর উনি একটু অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন?
অসুস্থ আসলে একটু না। আপনারা জানেন, উনার একটা থেরাপি একদিন পরে পরেই নিতে হয়। ফেসবুকে স্ট্যাটাসে উনি বহুবার বলেছেন আগে। ছোট বেলায় তিনি ছাদ থেকে পরে গিয়েছিলেন, সেজন্য একটু ঘাড়ে প্রবলেম আছে। সেজন্য প্রতিনিয়ত থেরাপিতে থাকতে হয়। আর উনার ব্লাড পেশারের একটু প্রবলেম আছে, সেটার জন্য প্রতিদিন মেডিসিন নিতে হয়, কলোস্টেরলেও একটু প্রবলেম আছে তার।

আগামী কাল কি তবে জামিন আবেদন করছেন আপনারা?
আমাদের অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরো ভাই এটা ভালো জানেন। আমি যতদূর জানি আগামীকাল বা পরশু তিনি জামিন আবেদন করবেন।

আসিফ কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ঢাকাসহ বেশকিছু জায়গায় মানববন্ধনের খবর এসেছে?
আসলে ক’দিন ধরে আসিফের বিষয় নিয়ে খুবই ব্যস্ত। কে কি করছে, কোথায় কি নিউজ আসছে এগুলো দেখার পর্যন্ত সময় পাচ্ছি না। তবে মানববন্ধনের কথা শুনেছি। তার ভক্তরা নিজ থেকেই এসব করছেন। সূত্র- চ্যানেল আই অনলাইন