মানুষের জীবনে কখন কি হবে তা কেউ বলতে পারে না ।সময়েই তা বলে দেয় কার ভাগ্যে কি আছে। বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এর বর্তমানে তার স্বাস্থের অবস্থা গুরুতর ।তিনি এই অবস্থার স্মূখিন হবেন তা কখনো ভাবতে পারেননি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক পোস্টে নিজের শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয়ে নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন একুশে পদক পাওয়া এ সংগীত ব্যক্তিত্ব খ্যাতনামা গীতিকার-সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।‘অপারেশনের পূর্বে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরআন শরীফ রাখতে চাই।’
এ স্টেটাসে নড়লেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার রাতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী খোঁজ খবর নিয়ে নিজ ইচ্ছায় বুলবুলের চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে সরকার এর নির্দেশে ২০১২ তে যুদ্ধ অপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে তিনিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসাথে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। সাক্ষীর কারণে তার নিরপরাধ ছোটো ভাই মিরাজকে হত্যা করা হয়।
বর্তমানে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল হৃদরোগে আক্রান্ত। তার হার্টে ৮ টা ব্লক ধরা পড়েছে এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না।
ফেসবুক পোস্টে আহমেদ ইমতিয়াজ লেখেন, ‘সরকারের নির্দেশেই ২০১২ তে আমাকে যুদ্ধ অপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষি হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসাথে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু, এই সাক্ষির কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজ হত্যা হয়ে যাবে এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।
তিনি বলেন, আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দি থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না। এরই মাঝে কাউকে না জানিয়ে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে সিসিইউ-তে চারদিন ভর্তি ছিলাম।’
তিনি আরো লেখেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমি আমার হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছি। কোনো সরকারি সাহায্য বা শিল্পী, বন্ধু-বান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই, আমি একাই যথেষ্ট (শুধু অপারেশনের পূর্বে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরআন শরীফ রাখতে চাই)।’ যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে উছেন তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।





