এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার চতুর্থ দিনে সারা দেশে ২৩৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। প্রশ্নপত্রের আদলে সাদা কাগজে কম্পিউটার প্রিন্টারে ছাপিয়ে নকল নেয়ায় ঢাকায় বনানী বিদ্যা নিকেতনের এক ছাত্রকে বহিষ্কারের পাশাপাশি পুলিশে দেয়া হয়েছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

নকলে সহায়তাসহ দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ১১ শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়। ফরম পূরণ করা সত্ত্বেও ১৭ হাজার ১৩৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি পরীক্ষায়।

এ যাবত ১ দিনে এতসংখ্যক শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও অনুপস্থিতির রেকর্ড এটাই। এদিন এইচএসসিতে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র এবং মাদ্রাসার আলিমে আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা ছিল। উভয় স্তরের পরীক্ষাই শিক্ষার্থীদের কাছে ‘কঠিন বিষয়’ হিসেবে পরিচিত। যে কারণে একটি গোষ্ঠী পরীক্ষা সামনে রেখে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যথারীতি প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।

কিন্তু সরকারের নেয়া ‘কার্যকর’ পদক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষার চতুর্থ দিনও ছিল প্রশ্ন ফাঁস মুক্ত। সফল হয়নি প্রশ্ন ফাঁসকারীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবার আগের চেয়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে নকল আগের চেয়ে কমেছে। প্রশ্ন ফাঁসও বন্ধ হয়েছে।

এ নীতি সবসময় বহাল থাকলে প্রশ্ন ফাঁস ও নকলের দৌরাত্ম্য এত বাড়ত না। তবে নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথাও নিরাপরাধ শিক্ষকও ফেঁসে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকার আহমদ বাওয়ানী একাডেমিতে ৫ এপ্রিলের পরীক্ষায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তার স্থলে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে এ ব্যাপারে শাস্তিপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রীরা বিশেষস্থানে লুকিয়ে মোবাইল ফোন কেন্দ্রের ভেতরে নিয়ে যায়, যা কেন্দ্রের গেটে উন্মুক্ত তল্লাশিতে বের করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু সন্দেহ হওয়ার পর তিনি জেলা পরিষদ ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে করেই মোবাইল ফোন উদ্বার করেন। অথচ কেন্দ্র প্রধানকে শাস্তি পেতে হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমরা যথাযথভাবে নীতিমালার প্রয়োগ করছি।

এক্ষেত্রে যাকেই নীতিমালাবিরোধী কাজে জড়িত পাওয়া যাবে, তাকেই শাস্তি দেয়া হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বহিষ্কৃতদের মধ্যে এইচএসসিরই ১৬৭ জন। বাকিরা আলিম পরীক্ষার্থী।

এইচএসসিতে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৭৪ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ১২, কুমিল্লায় ১৫, যশোরে ১৬, চট্টগ্রামে ৮, সিলেটে ১২ এবং বরিশাল ও দিনাজপুরে ১৫ জন করে আছে।

যশোর বোর্ডের অধীন ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় কর্তব্যে অবহেলার কারণে ১০ শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সিলেটেও একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে যশোরের তথ্যটি আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পাঠানো পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য বিবরণীতে স্থান পায়নি।