২০ বছর আইনী লড়াই জয়ী হয়ে আনন্দে মেতেছে যোধপুরের বিশনয় সম্প্রদায়। হরিণ শিকারের দায়ে ‘টাইগার’কে অবশেষে খাঁচায় পুরতে পেরেছেন- এটিই তাদের উৎসবের উপলক্ষ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী মহীপাল বিশনয় বলেন , এই কুড়ি বছর একটাদিনও আমরা কিন্তু বসে থাকিনি। ঘটনার সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কেস সাজিয়েছি, এমনকি তাদের পরিবারের দেখাশোনা পর্যন্ত করেছি।
বিশনয় সমাজ এটাকে একটা মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখেছিল, আর অভিযুক্ত যতই প্রভাবশালী হোক না কেন আমরা ঠিকই জানতাম একদিন না একদিন আদালতে আমাদের কথাই প্রমাণিত হবে।’
তিনি জানান, রাজস্থানসহ সারাদুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিশনয় সমাজ এই মামলা লড়তে টাকা যুগিয়েছে। ডোনেশন এসেছে সুদূর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থেকেও।
বিশনয় হলো রাজস্থানের একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়, পঞ্চদশ শতকে বিকানেরের গুরু জম্ভেশ্বর যার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রকৃতি ও প্রাণীদের রক্ষা ও ধর্মাচরণের জন্য তিনি ২৯টি বিধান দিয়ে গিয়েছিলেন। এই ২৯টি, অর্থাৎ বিশ + নয়টি বিধান মেনে চলেন বলেই তার অনুগামীরা ‘বিশনয়’ বলে পরিচিত।
প্রাণীহত্যা করা বা বৃক্ষচ্ছেদন বিশনয়দের কাছে গর্হিত অপরাধ বা পাপ বলে গণ্য হয়। কারণ সেটাই তাদের গুরুর নির্দেশ। তারা নিরামিষাশী, কোনও প্রাণীর মাংস তারা ছুঁয়েও দেখেন না। এমনকি কোনও হরিণশিশু মা-কে হারালে বিশনোই মা তাকে নিজের বুকের দুধ দিতেও দ্বিধা করেন না!
বিশনয় সমাজের প্রধান মুরুব্বি রনবীর বিশনোই বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসই এরকম। গাছ বা প্রাণীদের বাঁচাতে একজন বিশনয় জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। প্রায় ৩০০ বছর আগে খেজরি গাছের জঙ্গল বাঁচাতে আমাদের নারীরা যোধপুরের রাজার বাহিনীর হাতে প্রাণও দিয়েছিলেন।





