তিন বছর বয়স থেকে অভিনয় করে চলেছেন শ্রীদেবী। আজ তাঁর যে নাম, যশ, প্রতিপত্তি সবই সিনেদুনিয়ার দৌলতে। কিন্তু আপনি জানেন কি, অভিনয় ছাড়াও, অন্য এক পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নায়িকা!
যা তিনি নিজের জন্য নয়! অন্যের জন্য করতেন। ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসতেন নায়িকা। সময় পেলেই বসে পড়তেন রঙ তুলি নিয়ে। ক্যানভাসে আঁকা সেসব ছবি বাজারে বিক্রি হত চড়া দামে। যা বিভিন্ন চ্যারিটির কাজে ব্যয় করতেন অভিনেত্রী।
খবর অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে পরিবারের সবাই মুম্বই ফিরে এলেও শ্রীদেবী থেকে যান তাঁর ছবির নিলামের জন্য।
আগামী মাসে দুবাইতে শ্রীদেবী আঁকা ছবির অকশন ছিল। যার জন্য দুটি পেন্টিং করেছিলেন তিনি। একটি মাইকেল জ্যাকসনের। অন্যটি সোনম কাপুরের। ছবির দাম ছিল ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এই সংক্রান্ত কাজের জন্যই সেদিন থেকে যান সুন্দরী। যদিও সেই থাকাই হল শেষ। ঘরে ফেরা হল না নায়িকার।
সদ্য সামনে এসেছে শ্রীদেবীর ময়না তদন্তের রিপোর্ট। সেখানে বলা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত নয়, বাথটবের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে নায়িকা। শরীরে মিলেছে অ্যালকোহলও।
সূত্রের খবর, মত্ত অবস্থায় বেসামাল হয়ে বাথটাবে পড়ে যান শ্রীদেবী। তারপরই এই ভয়ঙ্কর পরিণিতি। তবে সমগ্র বিষয় নিয়ে ক্রমশই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে৷
মদ খেয়ে বাথটাবে ডুবেই মৃত্যু শ্রীদেবীর!
ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে এই শোকের ফাঁকেও প্রশ্ন উঠেছিল এই কিভাবে কি কারণে মৃত্যু হয়েছিলো । শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ের একটি হোটেলের বাথরুমের বাথটাব থেকে অচেতন অবস্থায় শ্রীদেবীকে উদ্ধার করেন তার স্বামী বনি কাপুর।
কলকাতার আনন্দবাজার ফরেনসিক রিপোর্টের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছিল হার্ট অ্যাটাকই ছিল মৃত্যুর কারণ। তবে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল নাগাদ সেই খবরে নতুন মোড় নেয়। শ্রীদেবীর ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাকের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, দুর্ঘটনাবশত পানিভর্তি বাথটাবে পড়ে দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে!
শুধু তাই নয়, সেখানকার ফরেনসিক রিপোর্টের বরাত দিয়ে দুবাইয়ের খালিজ টাইমস জানায়, শ্রীদেবীর রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে!
এমন খবর নিশ্চিত করেছে দুবাইয়ের শীর্ষ গণমাধ্যম গালফ নিউজও। এছাড়াও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর এমন খবর নিশ্চিন্ত করেছে বিবিসিসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে ডেথ সার্টিফিকেটটিও। সেখানে দেখা গেছে মৃত্যুর কারণ পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হওয়া।
শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক জানার পরই কাপুর পরিবারের সদস্য সঞ্জয় কাপুর জানিয়েছিলেন তার ভাবীর হার্টে আগে কোনো সমস্যা ছিল না। তাই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টটিকে যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন তিনি।
এদিকে দুবাই থেকে কখন শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই পৌঁছাবে সে বিষয়েও এখনও কেউ স্পষ্ট নন। ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা নাগাদ শ্রীদেবীর মরদেহ নিয়ে বিশেষ বিমানে রওনা হতে পারেন বনি কাপুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে আজই (২৬ ফেব্রুয়ারি) শেষকৃত্য হবে কিনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ আর শেষকৃত্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সকাল থেকে অনিল কাপুরের বাড়িতে জড়ো হয়েছেন বলিউডের সকল স্তরের শিল্পী-কুশলীরা। সেখানে শ্রীদেবীর দুই মেয়ে জাহ্নবী ও খুশি কাপুরও রয়েছেন।





