অভিনব কায়দায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর অভিভাবকেরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নকল মেধাবীর হাতে জাতির অধঃপতনের আশংকা করছেন বুদ্ধিজীবীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দাবি। একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমাধান নিয়ে এসেছে ‘কোয়েশ্চেন সেন্টার’ নামের একটি সফটওয়্যার।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির পরীক্ষাসহ যেকোনো ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ঠেকাবে এই সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে মাত্র ২০-৩০ সেকেন্ডে প্রশ্নপত্র তৈরি করা সম্ভব। পরীক্ষায় কোন ধরনের প্রশ্ন থাকবে পরীক্ষার এক মিনিট আগেও কারো পক্ষে জানা সম্ভব হবে না। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বিইউবিটির শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন তার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়নে প্রায় ১৪ মাস ধরে কাজ করে উদ্ভাবন করেছেন ‘কোয়েশ্চেন সেটার’ নামক এই সফটওয়্যারটি। গত বছরের রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ইনোভেশন সেন্টারে সর্বপ্রথম নিজের এই সফটওয়্যারটি প্রদর্শন করেন মো. আল-আমিন। তবে এ মাসের শুরুতে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়।

আল-আমিন বলেন, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে সময় লাগবে মাত্র ২০-৩০ সেকেন্ড। আগে থেকে পরীক্ষার সিলেবাস সেট করে রাখতে হবে। এরপর প্রশ্নপত্র তৈরির সময় শুধু পরীক্ষার নাম, বছর, ক্লাস এবং বিষয় সেট করে কোয়েশ্চন বাটন চাপ দিলে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে যাবে। সিলেবাস ও প্রশ্নের মানবণ্টন দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কয়টা প্রশ্ন আসবে, এমসিকিউ ও সৃজনশীল সব কিছু আলাদাভাবে সেটা করা যাবে। সিলেবাসে যতগুলো প্রশ্ন থাকবে, সবগুলো ডাটাবেজে এন্ট্রি থাকবে। ৩২ ধরনের প্রশ্ন করা যাবে কোয়েশ্চেন সেটার দিয়ে। এ জন্য ক্লাস, বিষয়, পরীক্ষার ধরন এবং সেমিস্টার দিলেই অটোমেটিক প্রশ্নপত্র চলে আসবে। শুধু তাই নয়, প্রতিবারই আসবে নতুন নতুন প্রশ্ন।