এমন ব্যক্তির প্রস্তাব মনে হয়না খুব বেশি মানুষই প্রত্যখান করতে পারে। কেননা তিনি বলিউডের ভাইজান। ভাইজানের প্রস্তাব কেউ যে ফিরিয়ে দিতে পারেন- এমনটা কেউ কল্পনা করতে পারবেন? কিন্তু এমনটাই ঘটেছে সালমানের সাথে।
সালমান খান একটি ঘোড়া কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মালিক বিক্রি করবেন না। সালমান খান মাত্র একটি ঘোড়ার জন্য ২ কোটি রুপি অফার করেন কিন্তু সেই অফার রিফিউজ করে দেন ঘোড়ার মালিক।
এক বছর আগে পাঞ্জাবের বাদল পরিবার ‘সাকাব’ নামের ওই ঘোড়াটি কেনার জন্য সুরতের নিকটবর্তী ওলপাড শহরের সিরাজ খান পাঠানকে এক কোটি ১১ লাখ রুপি প্রস্তাব দেন। কিন্তু মালিজ সিরাজ খান বাদল পরিবারকে ফিরিয়ে দেন।
সম্প্রতি ‘সাকাব’কে কেনার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তিনি মালিককে ২ কোটি রুপি অফার দেন কিন্তু সেই অফার বিফলে যায়। কিনতে পারেন নি সালমান। এরপর আরো ৭ জন ব্যাক্তি ওই ঘোড়া কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মালিক সিরাজখান পাঠানকে। কিন্তু সেই একইভাবে তারাও প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে যায়।
কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়েও সামান্য একটি ঘোড়া কেন বিক্রি করতে চান না সিরাজ খান পাঠান? সামান্য ঘোড়া বলা হলেও আসলে এটি যেমন তেমন ঘোড়া নয়। গোটা ভারত বর্ষে শুধু একটি এই প্রজাতির ঘোড়া রয়েছে। এছাড়াও গোটা বিশ্বে এই প্রজাতির আর মাত্র দুটি ঘোড়া রয়েছে। একটি যুক্তরাষ্ট্রে অন্যটি কানাডায়।
বিশেষত্ব কী এই ঘোড়ার? বিশেষত্ব তো আছেই। এই দুর্লভ প্রজাতির ঘোড়া সরল পথে ঘণ্টায় ৪৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এছাড়া এতোই নিরীহ প্রজাতির ঘোড়া এটা যা অশ্বারোহীকে বিন্দুমাত্র সমস্যায় ফেলে না। অর্থাৎ যে কেউ স্বাভাবিকভাবে এই ঘোড়া আরোহন করতে পারেন, পড়ে যাওয়ার ভয় নেই।
যখন ‘সাকাব’ এর বয়স পাঁচ বছর তখন মাত্র সাড়ে ১৫ লাখ টাকায় রাজস্থানের একটি মেলা থেকে এই ঘোড়া কেনেন সিরাজখান পাঠান। সিরাজ খান এই ঘোড়ার তৃতীয় ক্রেতা ছিলেন। সবচেয়ে মজার বিষয় এই ঘোড়ার দুই চোখ দুই রঙের। একটি কালো চোখ, অন্যটি সাদা চোখ। এটাকে প্রথমে ‘তুফান’ নামে ডাকা হলেও এখন তার নাম সাকাব।
সাকাবকে ২ কোটি রুপি দিয়ে ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন স্বয়ং বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তাহলে আর কে কিনতে পারবে এই ঘোড়া? সালমানের এই প্রত্যখ্যাত হওয়ার ঘটনায় ভক্তরাও কম অবাক হননি।





