বর্তমানে ঢালিউডের সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে শাকিব অপুর বিয়ে ও তাদের সন্তানের বিষয়। মিডিয়ায় ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখার নতুন কিছু নয়। তবুও এই দুই তারকার গোপন বিয়ে নিয়ে আগ্রহ অনেক।

জানা যায়, নায়ক শাকিব খান ও নায়িকা অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল। তাদের বিয়ে নিয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়েছেন প্রযোজনা ব্যবস্থাপক মামুনুজ্জামান মামুন। কেননা তিনি সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন।

মামুনের ভাষ্যমতে, “ডিপজল ভাইয়ের প্রযোজনায় ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবি থেকেই শাকিব ভাই ও অপু দিদির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন আমি ওই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রযোজনা ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতাম। একসময় জানতে পারলাম, আমার জেলা ফরিদপুরেই শাকিবের বাড়ি। তখন থেকেই আমার সঙ্গে শাকিব-অপুর ভালো সম্পর্ক হয়ে গেল। দুজনই আমাকে ভাইয়ের মতো দেখেন।”

তিনি আরো বলেন, “চাচ্চু ছবির শুটিংয়ের কথা। ততদিনে তাদের (শাকিব-অপু) মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে একদিন সিদ্ধান্ত হলো যে, অপু আর অভিনয় করবেন না। ভারতে গিয়ে পড়ালেখা শেষ করবেন। তারপর দুজনের বিয়ে হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপু দিদি ভারতে চলেও গেলেন। বেশ কিছুদিন পর হঠাৎ করেই রাজ্জাক সাহেবের পরিচালনায় একটি ছবিতে সম্রাটের বিপরীতে কাজ করার জন্য ভারত থেকে চলে এলেন অপু দিদি।

রাজ্জাক সাহেবের ছবিতে অভিনয় করবেন দিদি, এটা আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু শাকিব ভাইকে না জানিয়ে ছবিতে কাজ করার কারণে অভিমান করে দিদির সঙ্গে কথা বন্ধ করে দিলেন ভাই। এরপর শাহিন-সুমনের ‘এক বুক জ্বালা’ ছবিতে দিদিকে বাদ দিয়ে শুভেচ্ছার সঙ্গে জুটি করলেন শাকিব। ততদিনে আমি হার্টবিট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি।

এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রযোজক তাপসী ঠাকুর ম্যাডাম আমাকে বললেন, ‘অপু-শাকিবকে নিয়ে একটা ছবি বানাতে চাই। ছবির নাম “মনে প্রাণে আছো তুমি”। তোমার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক, তুমি ব্যবস্থা করো।’ কিন্তু ততদিনেও শাকিবের অভিমান ভাঙেনি। তাই শাকিব ভাই দিদির সঙ্গে কাজ করতে চাইলেন না।

কিন্তু তাপসী ঠাকুর অপু ছাড়া ছবি বানাবেন না। পরে আমি অনেক বুঝিয়ে তাদের দুজনকে রাজি করালাম। ছবির শুটিং চলার সময়ই তাদের মান-অভিমান ভেঙে গেল। ওই ছবির শুটিং চলা অবস্থাতেই শাকিব-অপু বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তখন মিরপুর শাহ আলী মাজার রোডের একটি বাসায় থাকতেন অপু দিদি। হঠাৎ করেই একদিন শাকিব ভাই তার কালো রঙের গাড়িতে করে আমাকে সেখানে নিয়ে গেলেন।

সেখানেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে দুজন বিষয়টি আমাকে জানালেন এবং কাজী ডাকতে বললেন। আমি শাকিব ভাইকে বললাম, বিয়ে তো অনেক বড় ব্যাপার, ভেবেচিন্তে কাজটি করেন। দিদিকেও একই কথা বললাম। কিন্তু দুজনেই সিদ্ধান্তে অটল। তারা বললেন, ‘‘বিয়ের সংবাদ গোপন থাকবে। একসময় বড় অনুষ্ঠান করে সবাইকে জানাব আমরা।’’

মামুন আরো জানান, বিয়ের পুরো বিষয়টি তখন কেবল অপুর মেজ বোন লতা ও শাকিবের চাচাতো ভাই মনির জানতেন। যা–ই হোক, লতাও আমাকে বললেন, ‘তারা যখন চাইছে, তখন আপনি কাজী ডাকেন।’

আমি এর মধ্যে ফরিদপুরে শাকিব ভাইয়ের বাড়ির কাছ থেকে মজিবুর রহমান নামের এক কাজী সাহেবকে নিয়ে আসি। তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন ভেবে কাজী সাহেবকে ঢাকায় এনে দুই দিন গোপন করে রাখলাম। দেরি দেখে অপু আমাকে বললেন, ‘কাজী আনছেন না কেন? শাকিব কি আমাকে বিয়ে করতে চাইছে না?’ আবার শাকিব ভাইয়েরও একই জিজ্ঞাসা, ‘অপু কি আমাকে বিয়ে করতে চাইছে না?’

পরে বাধ্য হয়ে আমি তাদের বিয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। বিয়ের আগের দিন শাকিব ভাই অপু দিদির জন্য একটি হীরার সেট ও একটি লেহেঙ্গা কিনেছিলেন। শাকিব ভাই এখন যে বাসায় থাকেন, ওই বাসায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হলো। আসরের নামাজের ঠিক আগে আগে বিয়ে পড়ানোর সিদ্ধান্ত হলো। আমি কাজী সাহেবকে নিয়ে গেলাম। এরই মধ্যে অপু দিদি ও তার বোন লতা এসে হাজির হলেন।

বিয়ের সময় আমি অপু দিদির উকিল বাবা হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করি। লতাও অপুর পক্ষে স্বাক্ষর করেন। আর শাকিব ভাইয়ের চাচাতো ভাই মনির স্বাক্ষর করেন তার পক্ষে। বিয়ের দেনমোহরটা বড় অঙ্কেরই হয়েছিল। অঙ্কটা না হয় না-ই বললাম। তবে ওই সময় অপু দিদি বলেছিলেন, ‘দেনমোহর দিয়ে কী হবে, সংসারটাই বড়।’ বিয়ের ঘণ্টা দুয়েক পর অপু ও লতা তাদের বাড়িতে চলে যান।

ওই দিন রাতেই দুই পরিবারের লোকজন বিয়ের খবর জেনে যান। জানার পর শাকিব ও অপুর পরিবারের বাকি সদস্যরা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। শাকিব ভাই ও অপু দিদির বাবা-মা বিষয়টি মানতে চাননি। পরে আমি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের বুঝিয়েছি। এভাবে মাস তিনেক গেছে।

পরে অপু দিদি শাকিব ভাইয়ের বাসায় আসা-যাওয়া শুরু করেন। এভাবেই দুই পরিবার মিলে যায়। এরপর থেকে শুটিং না থাকলে অপু সন্তানসম্ভবা হওয়ার আগ পর্যন্ত শাকিব ভাইয়ের বাড়িতে নিয়মিত থাকতেন। অন্যদিকে, শাকিব ভাইও অপুর বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে টিভি লাইভে সন্তানসহ হাজির হয়ে অপু জানান, শাকিবের সঙ্গে কয়েকবছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। এ নিয়ে দুই তারকার মাঝে বেশ কাদা ছোড়াছুড়িও হয়। পরে শাকিব স্বীকার করে নেন, অপু তার স্ত্রী। তবে এরপর তাদের একবারই প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায়। তাই তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন।