আমি গরীব ঘরের মেয়ে আর হয়তো এটাই আমার মুল অপরাধ কারণ গরীবের নিজস্ব স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। আমার পরিবার এবং আমার ইতিহাস দীর্ঘ এইসব কথা লিখতে বসলে ক্রমাগত লেখা বড় হবে কিন্তু শেষ হবে না তাই অতি সংক্ষেপে আমার জীবনের কিছু ঘটনা আজকে তুলে ধরলাম।

পারিবারিক টানাপোড়েনে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ি তখন আমার একমাত্র ছোট ভাইকে বাবা বিদেশে পাঠানোর জন্য একজন দালাল ধরে, খুব অল্প টাকায় ছোট ভাইকে দুবাই নিয়ে যাই ছোট ভাই দুবাই যাবার পরের দিনই আমার বিয়ে হয় সেই এজেন্সির মালিকের সাথে। আমি ইন্টার পাস করলাম বিয়ের পর বাড়ি থেকে, পরে আমাকে নিয়ে আসলেন ঢাকায়,ভর্তি হলাম একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। এভাবে বেশ ভালোই চলছিলো কিন্তু আমার স্বামীর চরিত্র আমার কাছে দিনে দিনে সন্দেহ প্রবণ হয়ে উঠলো। রাতে ড্রিংকস করে বাসায় ফেরে আমি কিছু বললেই সে বলে ব্যাবসা করতে হলে আরো কিছু করতে হয় এটা ব্যাপার না।

এভাবে ছয় মাস যেতে না যেতেই আমার স্বামীর চরিত্রের আরো খারাপ দিক ফুটে উঠলো আমি অবাস্তব কিছু সত্য জানতে পারলাম যেটা শুনার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না, সে একদিন কিছু বিদেশী মেহমান নিয়ে আসলো বাসায়, রাতে ব্যাপক আয়োজন করা হলো কিন্তু সব খাবার বাইরে থেকে আনা হলো।

ডিনার শেষে আমার স্বামী আমাকে প্রস্তাব দিলেন বিদেশী গেস্ট একটু ভালোভাবে খুশি করতে পারলেই অনেক কাজ পাওয়া যাবে, তাই আমাকে তাদের সাথে থাকতে হবে। আমি এই কথা শুনে নিতান্তই আকাশ থেকে পড়লাম, বেডের উপর পড়ে কান্নাকাটি করতে থাকলাম, ও বললো আমাদের ভবিষ্যতের স্বার্থে কাজটি তোমাকে করতেই হবে, আমি রাজি না তাই আমাকে রুমের ভিতরে আটকে রাখা হলো এবং আমার স্বামীর অনুমতি নিয়ে এক এক করে তিন নরপশুদের লালসার শিকার হলাম আমি।

পরের দিন সকালে আমি আত্বহত্যা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু বিধাতা আমাকে নেয়নি হয়তো আরো কিছু জানার বাকি ছিলো। পরে জানলাম আমার ছোট ভাইকে সে বিদেশে পাঠিয়েছেন একেবারেই টাকা ছাড়াই এবং বিনিময়ে আমাকে বিয়ে করেছে।

আমি যদি এই ঘটনা কাওকে বলি তাহলে আমার ভাইকে বিদেশে নির্যাতন করবে, আমার পরিবারের নামে আমার নামে উল্টাপাল্টা মামলা করবে। সেই থেকে আজ চার বছর ধরে আমার উপর অত্যাচার চলছে, ঢাকায় ওর কাছে থাকলে আপু প্রতি রাতেই আমার কাপড় খুলতে হয়। আমি আর পারছি না, আমার পড়াশোনা প্রায় শেষ পর্যায়ে, আমি কিভাবে কি করবো, আমি কিভাবে এই নরপিশাচের হাত থেকে মুক্তি পাবো।

আমি এমন স্বামী কে চাই না যে নিজের সামান্যতম স্বার্থের কারনে স্ত্রী কে বিক্রি করতে কোন দ্বিধাবোধ করে না। আমি স্বাধীন ভাবে বাচার সুযোগ চাই আপু প্লিজ পরামর্শ দিন।