তখন ঠিক দুপুর। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতরে একটা জায়গায় কতগুলো ছেলেমেয়ে ছোটখাট কি যেন এক অনুষ্ঠান করছে। খুব সুন্দর করে বেলুন টানানো। অনুষ্ঠান শেষে সবাই খাওয়া দাওয়া করছে। আর উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দিচ্ছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বস্তা হাতে সেই খাবার কুঁড়াচ্ছে এক যুবক। বয়স ২৮/২৯ হবে হয়তো। উচ্ছিষ্ট খাবার এবং পানির খালি বোতল কুড়াতে দেখে সেই যুবকের হাতেও এক প্যাকেট খাবার দেয়া হল। খাবারের প্যাকেট পেয়ে খুবই খুশি হল। চেহারা দেখে মনে হল সারাদিন কিছুই খায় নি। তা দেখে বিডি২৪লাইভের এই প্রতিবেদক ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে জানেন তার কষ্টে ভরা জীবনের গল্প। সেই অভাগা যুবকের অসহায় জীবনের গল্প জেনে নিন আপনিও।
পেটে ভাত না থাকলেও মনটা যেন স্বপ্নের মত বিশাল বড়। নাম তার সুলতান। নামের মত করে হয়তো চলতে পারে না কিন্তু স্বপ্নটা যেন নামের বিশালতার চেয়েও বড়। দেশের বাড়ি চট্টগ্রাম হলেও সুলতান থাকেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেটের বারান্দায়। কোন রকমে একটা কাপড় মুড়িয়ে মাথার নিচে ইট দিয়ে কত রাত পার করে দেয় সুলতান। সকাল হলেই বস্তা হাতে বের হয়ে পড়ে বোতল কুঁড়াতে। চারটা বোতল বিক্রি করে পায় মাত্র এক টাকা। এভাবে একশত বোতল কুঁড়াতে পারলে পঁচিশ টাকায় বিক্রি করে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করেন তিনি। অনেক সময় বোতল কুঁড়াতে না পারলে একটা খাবার জোটে না তার কপালে। কোনদিন দুপুরে বা সন্ধ্যায় খেতে চলে যায় মন্দিরে। কারণ সেখানে ফ্রিতে খেতে পাওয়া যায়।
সুলতান বলেন, লেখা পড়া করি নাই। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছি। আর পারি নাই। এরপর হোটেলে কাজ করতাম। পরে ভ্যান গাড়ি চালাতাম, এখন পারি না। আমার শ্বাসকষ্ট। আর পায়ে কি জানি হয়েছে। চলতে খুব কষ্ট হয়। এজন্য কোন কাজ করতে পারি না। কোথাও কাজের জন্য গেলে কেউ নেয়ও না, বলে চুরি কইরা পলায়া যামু। এরপর থেকে বোতল কুঁড়াই। সকালে বের হই সন্ধ্যার পর যাই গা। সন্ধ্যার পর পার্কে থাকতে দেয় না। স্টেডিয়াম মার্কেটে গিয়া রাত্রে থাকি।
সুলতান আরও বলেন, সারাদিন বোতল কুঁড়াই এগুলো বিক্রি করে যে কয় টাকা পাই এইডা দিয়া খাওন কিন্না খাই। কাকরাইলে ইসমাইল সম্রাট নামে এক নেতা আছে, হে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর অনেক মানুষরে খাওয়ায়। আমি ওখানে গিয়া খাই। পা নিয়া চলতে অনেক কষ্ট হয়। টাকা নাই যে ওষুধ কিনমু। খাইতেই পারি না ঠিকমত। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না, বুঝেও না। সবাই শুধু ধুর ধুর করে, মারে, বকে। না খাইলে, শরীর খারাপ হইলে কেউ দেখে না। বাড়ির কেউ খোঁজ লয় না। টাকা হইলে চিকিৎসা করতাম এরপর কোন কাজ করতাম।




