আমার নাম সাদিয়া জাহান ফারিয়া। বয়স ২২। একটি বেসরকারি ভার্সিটিতে অনার্স পড়ছি। আজ আপনাদের সাথে এমন একটি বিষয়ে শেয়ার করতে চাই যা আগে কখনো কাউকে বলা হয় নি।

বলতে পারেন যে আপনাদের সাথে শেয়ার করে লাভ কি? আসলে আমি আপনাদের পরামর্শ চাই। আপনাদের পরামর্শ হয়তো আমাকে পারবে এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে।

ভালবেসে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলাম মনের মানুষটিকে। কিন্তু বুঝতে পারিনি যে সে আসলে মানুষ নয়, একটি হিংস্র নরপশু। বিয়ের প্রথম বছরটা আমাদের খুব ভাল কেটেছে। মিথ্যে বলবো না। তার ভালবাসায় আমি সারাদিন ডুবে থাকতাম। আমরা মাঝে মাঝেই বাইরে যেতাম খাবার খেতে। ঘুরতে যেতাম সারাদিনের জন্য।

সমস্যাটা শুরু হলো ও যখন ব্যবসায় লস করলো। বিশাল লস। প্রায় ২০ লাখ টাকা চলে গেল একবারে। আমি তাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে টাকা গেছে আবার টাকা আসবে। কিন্তু সে কিছুই শুনল না। ধীরে ধীরে তার মাঝে পরিবর্তন আসতে লাগলো। প্রায়ই বাসায় রাত করে ফিরত। শুধু তাই নয়, মদ খেয়ে মাতাল হয়ে এসে আমার উপর অত্যাচার চালাত। ঘরে ঢুকেই খুব মারত। এরপরে যখন আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ত তখন জোর করে যৌন ক্রিয়া করে তারপর ঘুমাত। আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার সুখের দিন শেষ। সারাদিন বাসায় থাকতাম। বাইরে যেতে দিত না। দরজা তালা আটকে যেত বাইরে থেকে। আমি লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।

এভাবেই ৩ মাস কেটে গেল। এরপরেই শুরু হল আরেক ভয়ংকর অত্যাচার যা আমার কল্পনাকেও হার মানায়।

শিহাব (আমার স্বামী, ছদ্মনাম) একদিন তার এক বন্ধুকে নিয়ে অনেক রাতে বাসায় ফিরল। কিছুক্ষণ পরে তারা দুইজন মদের বোতল নিয়ে বসে মদ খেতে খেতে গল্প করতে লাগলো। এরপরে আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে শিহাব তার বন্ধুকে আমার সাথে একা রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে চলে গেলো। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই শিহাবের বন্ধু দ্রুত এসে আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলল। এরপরে আমাকে খাটে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলো। আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দিলাম। ঘরের মধ্যে একটা ফুলদানী ছিল। আমার পায়ের নাড়া লেগে সেটি পড়ে গেল। সাথে সাথে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। দেখলাম শিহাব আসছে। আমি মনে বল পেলাম। কিন্তু একি! শিহাব এগিয়ে এসে দ্রুত দড়ি দিয়ে আমার হাত পা বেঁধে ফেলল। তার বন্ধু মুখ চেপে ধরে ছিল। এবার হাত সরিয়ে আমার মুখে কস্টেপ মেরে দিলো। এই পর্যায়ে শিহাব ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। শিহাব বেড়িয়ে যাবার সাথে সাথে তার বন্ধু আমার উপর হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে কাপড় খুলে নগ্ন করে সারারাত ধরে উপভোগ করে। রাগে দুঃখে আমার চোখে পানি এসে যায়। ভোরে যখন তার বন্ধু বেড়িয়ে যায় তখন শিহাব ঘরে এসে আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। আমাকে বুঝিয়ে বলে যে এখন থেকে এভাবে মাঝে মাঝে তার বন্ধুরা এসে আমাকে ‘আদর’ করবে। আমি যেন বাধা না দেই। বাধা দিলে আমাকে তালাক দেয়ার হুমকি দেয়। আমি কিছু বলতে পারি না। আমার বোধশক্তি লোপ পায়।

এভাবে প্রায় প্রতিদিন শিহাবের কোন না কোন বন্ধু এসে আমাকে উপভোগ করে যেত। বিনিময়ে শিহাব তাদের থেকে টাকা নিতো। আমি একজন পতিতায় পরিণত হলাম। এমনকি একদিন একসাথে ৩ জন এসে আমাকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তারা আমাকে জোর করে বিছানায় শুইয়ে একের পর এক অত্যাচার চালায়। আমি বারবার চিৎকার করতে চেয়েও চিৎকার করতে পারি নি দুর্বলতার কারণে। পরে জ্ঞান হারায় অজ্ঞান হয়ে গেলে সেই শয়তানরা আমার অজ্ঞান দেহকেই ছিঁড়ে খুলবে খায়।

এই বছরের শুরুতে আমি শিহাবের কাছ থেকে পালিয়ে চলে আসি। আমি এখন আমার এক বান্ধবীর বাসায় তার সাথে থাকি। জানি না আমার জীবনে কি আছে? জানি না এখন কিভাবে জীবন কাটাবো। শুধু জানি আমাকে বাঁচতে হবে আমার নিজের জন্য।

আপনারা কেউ কি আমাকে বলতে পারেন এখন আমি কি করবো?

আমাকে অত্যাচারের কিছু নমুনা ছবি দেখুন ।

আমার ফেসবুক আইডিঃ সাদিয়া জাহান

অথবা আমার ইমেইল আইডিতে মেইল করতে পারেন।

লেখাটিতে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে নিজেদের গোপনীয়তার স্বার্থে।