বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এখন কথা বলা খুব বিপদ। খুবই কঠিন একটা সময় আমরা অতিক্রম করছি। প্রধান বিচারপতির ছুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অসুস্থার কারণ দেখিয়ে প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়ে তার নীরবতা শ্বাসরুদ্ধকর।
আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় দুদু এসব কথা বলেন। ‘বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধান বিচারপতি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলেন অপ্রত্যাশিত ভাবে। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচাররপতির সাথে দেখা করেছেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যাকে নিয়ে বিরোধী দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার উপস্থিতির ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আর সরকার আশ্বস্থ্য করার চেষ্টা করেছেন তিনি ঠিকই আছেন।
আরও একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে মন্দিরে পূজা দিয়েছেন। কোর্টে গিয়েছেন কিন্তু তিনি ছুটি নিয়েছেন কিনা বা অসুস্থ কিনা এ ব্যাপারে তিনি কোনো কথা না বলে নিরব থেকেছেন । প্রধান বিচারপতির এই না বলা কথাটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রধান বিচারপতির ঘটনাই প্রমান করে আপনার অধীনে কেমন নির্বাচন হতে পারে আর নির্বাচনে জয়লাভ করলেও বিরোধী দল যে ক্ষমতা পাবে বোকা ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। প্রধান বিচারপতি আপনার পছন্দের লোক সেই জন্যই তো আপনি তাকে মনোনীত করেছেন। সেই প্রধান বিচারপতি যখন ষোড়শ সংশোধনীতে সঠিক এবং সত্য রায় দিয়েছেন এটা আপনি মানতে পারলেন না। এখান থেকে আপনার ক্ষোভ তৈরি হল। তাকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হল। এটা যে তিনি লেখেন নাই, সই জাল করা হয়েছে এটা নিয়ে এখন আর কোন বিতর্ক নেই। যারা স্কুল কলেজে পড়ে তারাও তো এত কাঁচা কাজ করে না আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যে কাজটি করেছে প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে। জাতির কাছে ক্ষমা চান এতে আপনারা ছোট হবেন না, কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। আত্ম অহংকার ফ্যাসিবাদকে সারাজীবন কেউ রক্ষা করতে পারে না।
দেশের মধ্যে বর্তমানে যা হচ্ছে এগুলো কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন দুদু। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ যে প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে, সেটি হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারি তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। কখনো আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নিজে নিজেই ছুটি নিয়েছেন। দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলছেন প্রধান বিচারপতি কেন ছুটি নিয়েছেন, এটা তিনি জানেন না। বারের নির্বাচিত নেতারা প্রথমদিকে তাঁর (প্রধান বিচারপতি) সাথে দেখা করতে পারেননি। পুলিশ তাদেরকে বাধা দিয়েছে।’
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক কাউন্সিলর লায়ন এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস ছাত্তার পাটোয়ারী, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস-আল মামুন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।





