বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ঐক্যের পরিবর্তে জাতিকে বিভক্ত করেছে সরকার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০-দলীয় জোটের মহাসচিবদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।

২০-দলীয় জোট ভাঙতে শরিক দলের নেতাদের সরকার ভয় দেখাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ভাঙার চেষ্টা করছে। এ জন্য শরিক দল কল্যাণ পার্টির মহাসচিবকে অপহরণ করে অন্যদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানকে নিখোঁজ করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ২০-দলীয় জোট নেতাদের ভয় দেখানো। আমিনুর রহমানসহ সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে ফেরত দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

নির্যাতনের মুখে মিয়ামনার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২২টি ট্রাক নিয়ে উখিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। কিন্তু কক্সবাজারে যাওয়ার পর ত্রাণের গাড়িবহর পুলিশ আটকে দেয় বলে অভিযোগ করে বিএনপি। যে কারণে বিএনপির প্রতিনিধি দল উখিয়ায় যেতে পারেনি। এর প্রেক্ষিতে দলটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্র যদি এভাবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, এমন নজির পাকিস্তান আমলেও দেখিনি। এত বড় দুর্বৃত্ত এরশাদ আমলেও দেখিনি। এটা সন্ত্রাসীরাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এত বড় একটা সংকট, রোহিঙ্গা সংকট। এটা মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলের সভা করে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের কি যে মানবেতর পরিস্থিতি, অথচ সেখানে সরকার রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে বাধা দিল বিএনপিকে। কেন বাধা দিলেন ত্রাণ দিতে?’

তিনি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে, বিএনপি আর বিরোধী দল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিনি গুম, খুন, ধর্ষণ বেড়েই চলছে। উল্টো জনগণকে ডাইভার্ট করার জন্য জিয়া পরিবারের বদনাম শুরু করেছে। গুমের বিষয়ে সরকার ঢাগ গুড়গুড় করছে কেন? যদি কেউ গুম হয়ে যায়, সেটা খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। এভাবে করে ক্ষমতায় কিছু দিন টিকে থাকা যায়।