ভারতে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলো পশ্চিমবঙ্গেও। গণধর্ষণের পর এক মহিলার যৌনাঙ্গে কাঁচের ভাঙা বোতল ঢুকিয়ে দিল তিন দুষ্কৃতি। রোববার গভীর রাতে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, যে বীরভূমের সাঁইথিয়া পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাবাজি পাড়ার ওই গৃহবধূর স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ করেন। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে একাই বাড়িতে থাকতেন তিনি। রোববার গভীর রাতে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই মহিলা। সেই সময় দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে স্থানীয় তিন দুষ্কৃতি। বাড়ির বাইরে বের করে এনে গণধর্ষণ করে তাকে। অত্যাচারের শেষ হয় না সেখানে। ঠিক যে ভাবে দিল্লিতে জং ধরা রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল নির্ভয়ার গোপনাঙ্গে, সেভাবেই ভাঙা মদের বোতল বধূর যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেয় ধর্ষকরা। তারপর রক্তাক্ত মহিলাকে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
সাঁইথিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন আক্রান্ত মহিলা। ধর্ষকদের একজন আগেও তাকে উত্যক্ত করত বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।
নির্ভয়াকাণ্ড
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছর বয়সী প্যারামেডিকেলের ওই ছাত্রী। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘নির্ভয়া’ নামে পরিচিতি পান।
দু’সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ‘নির্ভয়ার’।
এ ঘটনায় এক নাবালক-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
বিচার চলাকালে তিহার জেলেই মৃত্যু হয় ধর্ষকদের একজন বাসচালক রাম সিংহের।
পুলিশ দাবি করেছে, রাম সিং আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু রাম সিং-এর পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালকের তিন বছর সংশোধনাগারে থাকার সাজা হয়।
ওই গণধর্ষণের এ ঘটনাটি ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়েই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বেশির ভাগ আইনজীবীই আসামিদের পক্ষ হয়ে মামলা লড়তেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন ও পুলিশ প্রশাসনের পুনর্গঠনের দাবিও উঠে ভারতে। এরই জেরে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধানসহ কঠোর ধর্ষণবিরোধী আইন অনুমোদিত হয়।
বিচারে চার ধর্ষকের ফাঁসির আদেশ হয় ২০১৩ সালের ১১ মার্চ। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ দিল্লির উচ্চ আদালত আসামীদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।
আসামিরা সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের রায়ে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দোষীদের ফাঁসির সাজা বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট৷ অভিযুক্ত ৪ জন দোষীদের কোনো পরিস্থিতিতেই মার্জনা করা সম্ভব নয়, জানিয়ে দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ৫ মে, ২০১৭ এ রায় ঘোষণা করা হয়।





