আইনি যুদ্ধে জয়ের পর দুর্গাপুজো নিয়ে যৌনপল্লিতে এখন প্রস্তুতি তুঙ্গে। পুজোর আগে এবার সেখানে নতুন লড়াই— খিচুড়ি বনাম লুচি-আলুর দমের!

গত সপ্তাহেই হাইকোর্টের নির্দেশে শোভাবাজারের মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটে রাস্তার উপরে দুর্গাপুজোর অনুমতি পেয়েছে সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি। আর তার পরেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ছেন যৌনকর্মীরা।

প্রতিমা মণ্ডপে আনা থেকে কলাবৌ স্নান, ভোগ রান্না থেকে মাইকে ঘোষণা— মঙ্গলবার দুর্বারের কর্মীদের পুজো সংক্রান্ত বৈঠক তাই প্রথমেই শুরু হল এই গুরুদায়িত্ব বণ্টনের মধ্যে দিয়ে। পুজোর ভোগে এবার খিচুড়ি না কি লুচি-আলুর দম, সেই প্রশ্নে দু’ভাগ হয়ে গেলেন দুর্বারের কর্মীরা। চেতলা-কালীঘাটের ‘মেয়ে’দের কীভাবে পুজোয় সামিল করা যায়, সেই আলোচনাও চলল এদিনের বৈঠকে।

২০১৩ সালে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয় সোনাগাছিতে। পরপর দু’বছর ঘুপচি ঘরেই পুজো করার পর ২০১৫ সালে এলাকার একটি মন্দির চত্বরে পুজো করেন যৌনকর্মীরা। কিন্তু তাতে পুজোর আনন্দ ছিল না। দুর্বারের সেক্রেটারি কাজল বসুর কথায়, ‘‘রাস্তার উপরে পুজো করার ইচ্ছে ছিল অনেকদিন। যাতে সমস্ত মেয়েরা একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারে। কিন্তু সেসময় কোর্ট অনুমতি দেয়নি। গত বছর তাই পুজোই করিনি আমরা। ’’

এবছর মসজিদবাড়ি স্ট্রিটে ৮ ফুট বাই ২০ ফুটের মণ্ডপে পুজোর ‘অধিকার’ ফিরে পেয়ে দৃশ্যতই খুশি যৌনপল্লি। কাজলের কথায়, ‘‘এবছর কোর্টের শর্ত মেনেই পুজো করব। মণ্ডপ যদিও খুবই ছোট, কিন্তু সেখানেই ফল কাটা থেকে অঞ্জলি দেওয়া, সিঁদুর খেলা থেকে ঠাকুর বিসর্জন— সবকিছুই হবে। ’’ পুজো নিয়ে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুনন্দা সরকারও।

ইতিমধ্যে কুমোরটুলির শিল্পী কালী পালের থেকে প্রতিমার বায়না করে এসেছেন দুর্বারের কর্মীরা। লাল পেড়ে গরদের শাড়ির সেই প্রতিমা কবে মণ্ডপে আসবে, সেই আশাতেই এখন দিন গুনছে সোনাগাছি।