বিশ্বের আকর্ষণীয় ১০ নারী রাজনীতিক – বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছেন এমন নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রেই কথাটি সত্য বলে প্রমাণিত। যারা পুরুষদের পাশপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
খন সময় বদলে গেছে। শুধু মেধা আর দক্ষতা দিয়ে সব কিছু জয় করা যায় না। পাশাপাশি ফিটফাট দর্শনধারী হওয়াটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছেন এমন নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রেই কথাটি সত্য বলে প্রমাণিত। যারা পুরুষদের পাশপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাদের অনেকেই দারুণ সুন্দরী, ফ্যাশন সচেতন। তাদের পোশাক থেকে শুরু করে চলনেবলনে সবকিছুতেই ফুটে উঠে আভিজাত্য।
সম্প্রতি ভারতের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে পরিচালিত এক জরিপ থেকে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর বিশ্ব রাজনীতিবিদদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের মহোনীয় ১০ নারী রাজনীতিবিদ সেই তালিকার সূত্র ধরে আজ আপনাদের জানাচ্ছি বিশ্বসেরা সুন্দরী রাজনীতিবিদদের কথা।
রানিয়া আল আবদুল্লাহ
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর স্ত্রী রানিয়া আল আবদুল্লাহ বর্তমানে জর্ডানের রানী হিসেবে যতটা না পরিচিত, তারচাইতে বেশি পরিচিত ফ্যাশনের প্রতি তার আগ্রহের কারণে। এমনিতে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানারকম কাজে ব্যস্ত থাকেন রানী। নিজের মর্যাদাকে বজায় রেখে দেশের শিশুদের জন্যে শিক্ষা, বিশ্বশিক্ষা আর মিলিয়নাম ডেভলপমেন্ট গোলের দ্বিতীয় লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে থেমে নেই নিজের পোশাক আর সাজগোজ নিয়ে বাড়তি যত্নটুকুও। সবসময়েই অত্যন্ত গোছালো, আকর্ষণীয় আর যথার্থ সাজপোশাকে দেখা যায় এ রানীকে।
ব্রিন্দা কারাত
ভারতের রাজনীতির জন্যে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়া এই নারীর পরিচয় ভারতের সবারই জানা। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদ ব্রিন্দা ভারতের সিপিআই পলিটব্যুরোতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম কোনো মহিলা। আর সেখানকার সদস্য হিসেবেই ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল পশ্চিম বাংলার হয়ে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। অত্যন্ত সাদাসিধে পোশাক-পরিচ্ছদে অভ্যস্ত ব্রিন্দা কারাত অনন্য সারল্যের মাধ্যমে সবার কাছে নিজেকে তুলে ধরেছেন আদর্শ নেতা হিসেবে। আর এতে তাকে সাহায্য করেছে তার অনন্য ব্যাক্তিত্বও। লাল ফোঁটা আর তুলোর শাড়ি- এটুকুতেই নিজেকে বেশ ফ্যাশনেবল করে তুলেছেন ব্রিন্দা।
হিলারি ক্লিনটন
মার্কিন রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরিভাবে জড়িয়ে নেওয়া হিলারি আমেরিকার সচিব কিংবা ফার্স্ট লেডি- যে রুপেই এসেছেন পর্দায় মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছে বিনাবাক্য ব্যয়ে। আর এর পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিত্ব আর ফ্যাশন স্টাইলের কৃতিত্ব। উপস্থিতিতে নানারকম উত্থান-পতন দেখা দিলেও নিজের জায়গা থেকে এদিক দিয়ে একটুও নড়েননি হিলারি। সবসময়েই নিজের পোশাক আর স্টাইলকে রেখেছেন উদ্দীপনাময়, আরামদায়ক, উজ্জ্বল আর সবার কাঙ্ক্ষিত হিসেবে।
কাশমালা তারিক
পাকিস্তানের এই আইনপ্রণেতা আইনজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান মুসলিম লীগের একজন সদস্যও। তবে নিজের এতসব পরিচিতির পাশাপাশি পোশাক আর মন্তব্যের জন্যেও বেশ আলোচিত তিনি। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য কাশমালা প্রচলিত প্রথা ভাঙা আর ছুটিতে সময় কাটাবার সময় খোলামেলা পোশাক পড়ার কারণে আলোচিত খবরে জায়গা করে নেন একটা সময়। তবে এসব সমালোচনায় কোনরকম কান দেননি কাশমালা। নিজের মতন করে একইভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন এই নারী। আর পোশাকের স্টাইল আর অসাধারন ব্যক্তিত্বের কারণেই এখনো বেশ বিখ্যাত কাশমালা।
প্রিয়াংকা গান্ধী
ভারতের রাজনীতিতে বংশগতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন প্রিয়াংকা গান্ধী ভাদেরা। একদিকে তিনি ফিরোজ গান্ধী আর ইন্দীরা গন্ধীর নাতনী। আবার অন্যদিকে রাজিব গান্ধীর মেয়ে ও নেহেরু-গান্ধী পরিবারের সদস্য। রাজনীতিতে পুরোপুরি তৎপর না হলেও প্রতিটি জায়গাতেই নিজেকে যথার্থভাবে সাজিয়ে নেন প্রিয়াংকা। সাধারনত সবক্ষেত্রে কটন শাড়িতেই উপস্থিত হলেও সংসদে কালো ট্রাউজার, সাদা শার্ট আর মোটা বেল্ট পড়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি।
রুবি ঢাল্লা
ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান রাজনৈতিক রুবি ঢাল্লা নিজের শুরুটা করেছিলেন বলিউডে অভিনয়ে মাধ্যমে। বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। কানাডার ৫০ জন সুন্দর মানুষের তালিকাতেও রয়েছে রুবির নাম। তবে এর পরপরই চলচ্চিত্র ছেড়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন রুবি। কানাডিয়ান হাউস অব কমন্সে প্রথমবারের মতন সেবার দুজন শিখ নারী স্থান পেয়েছিলেন। তাদের একজন ছিলেন ব্রিটিশ কলম্বিয়ান কনজারভেটিভ এমপি নিনা গ্রেওয়াল আর অন্যজন রুবি ঢাল্লা। তবে রাজনীতিতে স্থান করে নিলেও অভিনেত্রী হিসেবে রুবি যে নিজের স্টাইল আর ফ্যাশনকে ধরে রেখেছেন আগের মতন করেই সেটা আর বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
সোনিয়া গান্ধী
ভারতীয় না হলেও ভারতে এসে নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নেন একজন দেশটির নারীদের সঙ্গে। আর এই মানিয়ে নেওয়ার অসাধারন ক্ষমতাসম্পন্ন নারীর নাম সোনিয়া গান্ধী। ইতালি বংশোদ্ভূত ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির প্রধান সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে যতটা সিদ্ধহস্ত, ঠিক ততটাই নিজের ফ্যাশনেও। আর এক্ষেত্রে কেবল দেশেই নয়, দেশের বাইরেও ব্যাপক পরিচিত তিনি। শান্ত আর সুন্দর রুপে নিজেকে সাঁজাতে পছন্দ করা সোনিয়া শাড়িতেই নিজেকে করে তুলেছেন বাকি সবার আদর্শ। তবে শাড়ি তাকে কেবল নারীসুলভ করে দেখায় তাই নয়, বরং করে তোলে অনেক বেশি সুদর্শন আর আত্মবিশ্বাসীও।
সারাহ পলিন
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের সাবেক প্রার্থী সারাহ সবার কাছে পরিচিত লেখক, মন্তব্যকারী আর আলাস্কার ৯ম প্রশাসক হিসেবেও। তার পোশাক আমেরিকার প্রসিডেন্সিয়াল কর্মসূচীর সময়েও বেশ আলোচিত করে তোলে। তবে তাতে একেবারেই পাত্তা দেননি সারাহ বা দমে যাননি। এতটা সমালোচনা তার ফ্যাশন ডিভা হয়ে ওঠার পথেও কোনরকম ঝামেলা তৈরি করতে পারেনি। নিজের স্টাইল আঁটসাট স্কার্টের সঙ্গে বক্সি জ্যাকেট এখন অব্দি সবার আদর্শ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
ইউলিয়া তাইমোশেনকো
ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেনকোকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে তার পেশা আসলে কি। রাজনৈতিক বলেই যে কেবল আটপৌরে কাপড়ে সাদাসিধেভাবে থাকতে হবে সেই ধারনা ভেঙে দিয়ে নিজেকে আরো দশজন আকর্ষণীয় নারীর তালিকায় তুলে এনেছেন ইউলিয়া। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অব্দি ফ্যাশনের কোনরকম ত্রুটি রাখেননি তিনি। আরো দশজন মডেল কিংবা অভিনেত্রীর সাথে টক্কর দিতে পারার মতন যোগ্য ইউলিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হলেও নিজের এই স্টাইলের জন্যে সবসময়েই সবার কাছে বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি।
হিনা রাব্বানী খার
তবে উপরের সব নারী রাজনৈতিকেরা যথেষ্ট ফ্যাশন সচেতন হলেও তালিকায় সবার চাইতে এগিয়ে আছেন যে নারী রাজনৈতিক তিনি হচ্ছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খার। জুতো থেকে শুরু করে পোশাক, ওড়না, হাতব্যাগ আর অবশ্যই সানগ্লাস- যেকোন বিদেশ ভ্রমণের সময় এগুলো আটকে রাখে হিনা রাব্বানীকে সবার চোখে। নিজের এই অসাধারন স্টাইলের মাধ্যমে খুব সহজেই অন্য রাজনীতিবিদদেরকে এ তালিকা থেকে হটিয়ে দিতে পারেন হিনা।





