বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের ‘সমালোচনা’ করেছেন।’

১১ আগস্ট শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সমালোচনামুক্ত রাষ্ট্র থাকলে কিছু মানুষের সুবিধা। তাদের পার্মানেন্ট চাকরির ব্যবস্থা হয়। খায়রুল হক তো সুশাসন-দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাইবেন না, তিনি একদলীয় হয়ে কাজ করেন।

রিজভী বলেন, এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। যার লিখিত রূপ তিনি দিয়েছিলেন অবসরে যাওয়ার পর। এটা করে সেদিন খায়রুল হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূর্ণ করেছিলেন। 

খায়রুল হকের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচনহীন এক ব্যক্তির দুঃশাসন চালু রাখতে সহায়তা করে দেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করেছেন। দেশের গণতন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ খারাপ নজির স্থাপন করে গেছেন।

বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গত বুধবার আইন কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এর প্রধান এ বি এম খায়রুল হক। সে সময় তিনি রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় আগে থেকেই লিখে রাখা হয়েছে।’ 

‘বিচার বিভাগ অপরিপক্ব’ এমন মন্তব্য করে খায়রুল হক আরও বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় অগণতান্ত্রিক ও পূর্বপরিকল্পিত। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সংবিধানের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় যখন আদালতে প্রকাশ্যে পড়ে শোনান তখন (খায়রুল হক) বলেছিলেন, আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অথচ এর ১৬ মাস পর যখন পূর্ণাঙ্গ রায় লিখিতভাবে প্রকাশ করলেন, তাতে এই কথাটাই বাদ দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন।

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরের পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে আসা খায়রুল হকের এ ধরনের সমালোচনাকে তিনি ‘ভবিষ্যতে বড় পুরস্কারের আশায়’ ‘মনগড়া কথা’ বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন বিএনপির এ নেতা।