ফেসবুকে একটা ভিডিওতে দেখলাম, একটা আবাসিক হোটেল থেকে খুব বাজে আচরণের মাধ্যমে কিছু পতিতাকে চরম নাজেহাল ও শারীরিক প্রহার করে বের করা হচ্ছে, একটা মেয়ে মুখ ঢেকে পুলিশের কাছে বার বার ক্ষমা চাইছে,

আর শেষ বারের মতো মাফ চাইছে, পুলিশ পা ছাড়িয়ে নিচ্ছে, আর সাংবাদিক টেলিভিশনের লোগোটাকে খুব হাইলাইট করে নিজের বিশাল কর্ম তার দর্শকের কাছে তুলে ধরছেন। পুরো ভিডিওটা দেখে আমার শরীরের রক্ত টলটল করছিল কারণ, এই মেয়েগুলি কারা ?

কাদের নির্যাতনে ওরা আজ ওই অন্ধকার ঘরে ? কারা ওদেরকে ভোগ করে যাচ্ছে ? আমি নিশ্চিত, যে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে গেছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ গ্রেফতারকৃত পতিতার বিছানার সঙ্গী ছিলো শেষ রাতে। প্রতিটি রাতে সাংবাদিক, পুলিশ , রাজনৈতিক এমন কোনো সমাজের লোক নেই যারা ওদের সাথে মিশতে যায়না। ওরা তো মুখ ঢেকে যায়, বোরকা পরে যায় হোটেলে, আর আমরা পুরুষরা তো বুক ফুলিয়ে যাই ওদেরকে ভোগ করতে।

ছিঃ ঘেন্না হয় এইসব দেখলে, সামান্য আইওয়াশ করানোর জন্য এতগুলি মেয়ের বুক ভরা কান্না সত্ত্বেও তাঁদেরকে থানায় নিয়ে গেছে। সমাজের চোখে তাদেরকে করা হয়েছে তিরস্কারের পণ্য। আরে, তাদের দোষ কেনো হবে ?? দোষ তো হোটেলের মালিকের, দোষ তো ওই পুলিশের, যারা দিব্যি হোটেল চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে।

মেয়ে গুলিকে সমাজে আর মুখ দেখাবার সুযোগ রাখলোনা, তাদের মধ্যে কেউ আছে নিতান্তই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতে ওখানে গেছে , নিজের দেহকে শখ করে কেউ বিক্রি করতে যায়না, তাদের দুঃখ জিজ্ঞাসা করার জন্য কি কেউ কখনো তাদের ঘরে গেছে ? কেউ কি তাদের দুঃখ ঘুচাবার জন্য হাত বাড়িয়েছি ? তাহলে কোন অধিকারে তাদেরকে জনসম্মুখে লজ্জা দেয়ার সাহস করছি ?

আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটকারীদের পাদুকা লেপন করছি, আর শেষ সম্বল বিক্রিকারীদের অসম্মান ও অত্যাচার করছি। ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে ওদের হাজার জনকে কর্ম ও বাসস্থান ব্যবস্থা করে দিতে পারি, কিন্তু কেউ নেই তাদেরকে নিয়ে কথা বলার। নারী উন্নয়ন সংগঠনের নাম চলছে লোপাট, শত শত কোটি টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। হে নারী তোমার কাছে আমি নত, ক্ষমা করো আমায়।