পাঁচ দিনের ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশের মানুষের মতো বিদেশি বন্ধুরাও চায় তার দল আগামীতে ক্ষমতায় আসুক।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কে দলীয় নেতাকর্মীদের দেয়া সংর্বধনায় এসব কথা বলেন এরশাদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি আচরণের কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ‘বিদেশি বন্ধুরাও’ এ সত্য অনুধাবন করতে পেরেছে।
গত ১৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে ভারত যান এরশাদ। সফরে তিনি আজমীর শরিফ জিয়ারত করেন। ভারত যাত্রার দিন জাপার তরফে দাবি করা হয়েছিল, সফরে ভারতের উচ্চপদস্থ রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। তবে এমন কোন বৈঠক হয়েছে কী না, তা এখনও জাপার পক্ষ থেকে বলা হয়নি।
সংবর্ধনায় ছিল নির্বাচনী আমেজ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জাপার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুপুর থেকেই ভারি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নেন। শ্যামপুর-কদমতলি থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে জমায়েত করে ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার পক্ষে শোডাউন করেন তার অনুসারীরা।
তারা আগেভাগেই বিমানবন্দরের সামনের সড়কের ‘দখল’ নেন। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়র প্রত্যাশীর মীর আআব্দুস সবুরও শোডাউন করেন। লিয়াকত হোসেন খোকা এমপিও তার অনুসারীদের নিয়ে অবস্থান নেন বিমানবন্দরের সামনের সড়কে।
খোলা ট্রাকে স্থাপিত মঞ্চে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে একমাত্র উদার গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেশবাসী আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে জাপা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল।
এরশাদের সফরসঙ্গী রহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাপা চেয়ার্যামের সফর সফল হয়েছে। দিল্লিতে অনেকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, জাপাই একমাত্র দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি।
বক্তৃতার পর খোলা গাড়িতে করে এরশাদ বিমানবন্দর থেকে তার বারিধারা বাসভবনে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে জাপার কয়েক হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে এরশাদকে ‘বরণ’ করেন। তাদের কারণে বনানী থেকে উত্তরাগামী সড়ক বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় বন্ধ থাকে। রাস্তার একপাশ দিয়ে সীমিত আকারে চলে যানবাহন। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অশেষ দুর্ভোগ পোহান সাধারণ মানুষ।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংর্বধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জাপার কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।





