আমরা সবাই কমবেশি যৌনকর্মী সম্পর্কে জানি। কিন্তু আমরা কি এটা জানার চেষ্টা করি যে তারা কেমন আছে। কি করছে। ঈদের দিন তারা কি করবে? হয়তো ভাবি না।
আবার ভাবি। কিন্তু ভাবলেও তো কিছু করার থাকে না। তারা যে সমাজের বাইরের মানুষ। তাদের যে আমরা ভালো চোখে দেখি না। আমাদের সমাজের তাদের পতিতা বলা হয়। তাদেরকে ছোট করে করা কথা বলা হয়। আমরার কি একবারের জন্য ভেবে দেখার চেষ্টা করি কেন এই পথ বেছে নিয়েছে?
যাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় নিজেদের যৌবন। ঈদ আনন্দ তাদের জন্য ভাবাই অকল্পনীয়। তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থা যাদের দেয় না মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা। কেমন কাটলো তাদের ঈদ?
টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়া এলাকায় বসবাসরত যৌনকর্মী মরিয়মের (ছদ্দনাম)। ওই যৌনকর্মী সম্পর্ন তথ্য গোপন রেখে খবরটি প্রকাশের আশ্বাসে কথা বলতে রাজি হয়।
মরিয়ম ২০০৮সাল থেকে নিজের যৌবন বিক্রি শুরু করে। মরিয়মের সাথে গোপনে যোগাযোগ হয় প্রতিবেদকের। পাঠক আসুন এক নজরে পড়ে নেওয়া যাক।
প্রশ্ন: রোজা ও ঈদ কীভাবে কাটলো?
মরিয়ম: আমাদের আর রোজা, আর ঈদ। আমরা কি মানুষ? আমরা তো বেশ্যা! আমাদের কে খোঁজ নিবে?
প্রশ্ন:: আপনি এই পেশায় কেন আসলেন?
মরিয়ম: শখ করে কি কেউ এই পেশায় আসে? এক বেটার লগে বিয়ে হয়েছিলো। ওই বেটা আমাকে ঢাকায় আইনা রাইখা হারাই গেছে। আমাকে এক খালা এখানে দিয়ে গেছে।
প্রশ্ন:: আপনার পরিবারের কাছে যেতে ইচ্ছা করে না?
মরিয়ম: আমার পরিবার জানে আমি মরে গেছি। আমি কোন যোগাযোগ করিনি। করে কি হবে এই মুখ কি করে দেখাবো। বুড়া বাপকে কি মেরে ফেলবো নাকি।
প্রশ্ন:: ঈদের আনন্দ করতে ইচ্ছা করে না। আর কতটাকা পান প্রতিদিন?
মরিয়ম: আমাগের কোন ঈদ নাই। আর কতটাকা পাই এসব আপনার না জানলেও চলবে। আমি আর কিছু বলবো না আপনাকে। আমাদের কাছে কতজনই তো আসে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ জুলাই রমজান মাসে প্রায় দুইশ বছরের পুরনো কান্দাপাড়া যৌনপল্লীর সাড়ে আটশ কর্মীসহ দুই হাজার নারী ও শিশুকে একরাতেই তাদের আবাসন ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় হাইকোর্টের রায়ে যৌনকর্মীরা আবার সেখানে ওই এলাকায় বসবাস করতে পারেন।





