প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ অজ্ঞাত ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ছাত্রলীগের এক নেতা।
বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই নালিশি মামলা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানি।
পরে ঢাকার মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান মামলাটি আমলে নিয়ে ইমরান এইচ সরকার, সনাতন উল্লাসসহ আসামিদের তলব করেছেন। আসামিদের আগামী ১৬ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে সর্বতভাবে সমর্থন দেয় ছাত্রলীগ। মঞ্চের কর্মসূচিতে দলবল নিয়ে অংশও নেয় তারা। তবে ওই বছরের ৫ মে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ এবং শাপলা চত্বর তাণ্ডবের পর ছাত্রলীগ এই মঞ্চ থেকে সরে যায় এবং এর পরের ঘটনাপ্রবাহে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের পর এই বিরোধ নতুন রূপ নিয়েছে। ধর্মভিত্তিক সংগঠনে হেফাজতে ইসলামের হুমকির মুখে গত ২৫ মে দিবাগত রাতে সুপ্রিম কোর্টের সামনের ফোয়ারার সামনে থেকে অপসারণ করা হয় ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্যটি। দুই দিন পর এনেক্স ভবনের সামনে সেটি প্রতিস্থাপন করা হয়।
তবে ভাস্কর্য অপসারণের পর পর প্রগতিশীল শক্তির পক্ষ থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রতিবাদ জানায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালে গড়ে উঠা আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরাও। শুক্রবার তারা রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ করে।
ওই মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তি করে স্লোগান দেয়া হয় বলে অভিযোগ এনে গত সোমবার রাতে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মিছিল করে ছাত্রলীগ।
মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এই ইমরান এইচ সরকারকে শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে ইমরান এইচ সরকার ও সনাতনকে (সংস্কৃতিকর্মী) দেখা যাবে, সেখানে কুত্তার মতো পেটানো হবে।’





