খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেছেন, ৭১ সালের পরাজিত শক্তি কে এই দেশের মানুষ লাল কার্ড দেখিয়ে পরাজিত করেছে। বিপুল ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মন্ত্রী বলেন, মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে ভুলিয়ে রেখে ছিল বিএনপি। খালেদা জিয়া বলেছিল নৌকায় ভোট দিলে মসজিদে আজান বন্ধ হবে, উলোর ধিনী হবে, বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। বিএনপির এমন মিথ্যাচারের জবাব এবার বাংলাদেশের মানুষ বিপুল ভোটে নৌকাকে বিজয়ী করে ৭১ পরাজিতদের মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছে। তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে বলেন, আগামী মাস থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে যারা সত্যি কারের মুক্তিযোদ্ধা তাদের কে রেখে ভুয়াদের বাদ দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারী) দুপুরে শহরের ভবানীপুর এ নব নির্মিত রাজবাড়ী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনসহ রাজবাড়ী সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি গোয়ালন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন, রাজবাড়ী সদরে ৩৫টি, পাংশা ৩৪টি, গোয়ালন্দ ১২টি, বালিয়াকান্দি ২১টি, কালুখালিতে ১৫টি, রাজবাড়ী জেলায় সরকারি খরচে করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বমোট ১১৭টি বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। তাছাড়াও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। রাজবাড়ী থেকে নতুন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে সদরে ৩৫ জন, পাংশা ৭৭, পাংশা থেকে ৩৪ জন বাদ পরতে পারে। গোয়ালন্দ ১১ বালিয়াকান্দি ২৭, কালুখালি ৩১ এর মধ্যে কতজনের প্রতি আপত্তি আছে সে বিষয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানানোর জন্য আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন – রাজবাড়ী এক আসনের সংসদ সদস্য সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী, প্রকল্প পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক যুগ্ম সচিব ড. মুইনুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আবদুল জব্বার, পৌর মেয়র মহাম্মদ আলী চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাকিব খান প্রমুখ।

এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক আজ বেলা ১১ টায় রাজবাড়ী সার্কিট হাউজে আসেন। পরে দুপুরে ১টায় রাজবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ রাজবাড়ী সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর জেলার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী ত্যাগ করেন।