আইন অনুযায়ী এমপি হতে পারছেন না তৃতীয় লিঙ্গের কেউ। প্রচলিত ভাষায় হিজড়া হিসেবে পরিচিত জনগোষ্ঠীর কাউকে এমপি করতে চাইলে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন পরিবর্তন করতে হবে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কারণ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার জন্য সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো মহিলা সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন’। তাই হিজড়াদের কাউকে এমপি করতে চাইলে তাদের সংশ্লিষ্ট ধারায় যুক্ত করতে হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয়কে সরকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। ১১ই নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করে জানানো হয়, সরকারি নথিপত্র ও পাসপোর্টে তাদের লিঙ্গ পরিচয় ‘হিজড়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ঘোচাতে এই স্বীকৃতি কার্যকর হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে তথ্য সংগ্রহের সময় ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় হিসেবে ‘নারী’ ও পুরুষের পাশাপাশি ‘হিজড়া’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। পাসপোর্টে তাদের লিঙ্গ পরিচয় হবে ‘হিজড়া’।
গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত আসনে দলটি থেকে নির্বাচিত হতে তৃতীয় লিঙ্গের ৮ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ফরম সংগ্রহকালে তাদের অনেকেই বলেছিলেন, সংসদে হিজড়াদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তাই তাদের বিষয়গুলো সঠিকভাবে উঠে আসে না। সেজন্য এবার হিজড়ারা সংসদে প্রতিনিধি দেখতে চাইছেন।
কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে নির্বাচিত করার সুযোগ নেই। সংবিধানের এ সংক্রান্ত সর্বশেষ সংশোধনীর ৬৫ (১)-এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংসদে ৫০টি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে।’ এমনকি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশেও (আরপিও) তৃতীয় লিঙ্গের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।
সেজন্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানে সংশোধনী না এনে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার একজন সিনিয়র সচিব নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সংরক্ষিত আসন শুধু নারীদের জন্য, হিজড়াদের নারী হিসেবে স্বীকৃতি নেই বিধায় তাদের সংরক্ষিত আসনে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। অন্যথায় তারা সুযোগ পাবেন না।




