একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে অল্প কিছু দিন হল। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা। নির্বাচনের মূল লড়াই শেষে এখন সংরক্ষিত নারী আসনে সাংসদ হওয়ার দৌড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একঝাঁক নারী নেত্রী। এ জন্য তারা দলের শীর্ষ পর্যায়ের সমর্থন পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আগামী ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশন শুরুর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা নির্বাচিত হতে পারেন। দ্রুতই এ নারী আসনের নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। তাই অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সুত্রে জানা গেছে,আবার অনেকে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজনদের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং সুযোগ দেওয়ার জন্য এবার সংরক্ষিত আসনে কিছু নতুনদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এবার সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এগিয়ে রয়েছে যারা:
ড. শাম্মি আক্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। মারুফা আক্তার পপি, সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। সাফিয়া খাতুন, সভাপতি,বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। নাজমা আক্তার, সভাপতি, যুব মহিলা লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি। অপু উকিল, সাধারণ সম্পাদক, যুব মহিলা লীগ,কেন্দ্রীয় কমিটি। শমি কায়সার,অভিনেত্রী। রোকেয়া প্রাচীর, অভিনেত্রী।
সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, কেয়া চৌধুরী, তারানা হালিম, সাবিনা আক্তার তুহিন, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, শেখ মিলি। মাহামুদা বেগম ক্রিক, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। সাংবাদিক শামীমা দোলা, সদস্য, বন ও পরিবেশ উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,সাবেক সহ সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি। রোজিনা নাসরিন রোজি, দফতর সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। ফারহা দিবা দীপ্তি, সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি।
অ্যাডভোকেট রুবিনা মিরা, সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি। আরিফা রহমান রুমা, সহকারী পরিচালক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৌশলী ইছমত আরা বেগম ইসমু, সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ- কমিটি। সুলতানা রাজিয়া পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। সোহেলী সুলতানা সুমি, সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি। রেখা আলম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নাসরীন সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।
শারমিন সুলতানা লিলি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ,কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। নূরজাহান আক্তার সবুজ, সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি। ইসমত আরা হ্যাপি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। তামান্না নুসরাত বুবলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ। অ্যাডভোকেট রানু আক্তার, মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী।
হুমায়রা লতিফ পান্না, সাধারণ-সম্পাদক, মাদারীপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ। আয়সা জাবিন,সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি।জাকিয়া সুলতানা শেফালী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।
এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নাম শোনা যাচ্ছে সাংবাদিক শামীমা দোলার। তিনি ১৯৯৫ থেকে খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলন থেকে সক্রিয় ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০০১ এর বিএনপি, জামাত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন সক্রিয় ভুমিকা ছিল। এছাড়াও তিনি দুইবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে নির্বাচন করে নির্বাহী সদস্য হয়েছেন, একবার সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিদেশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইভেন্টে যোগদানের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তার বইয়ের নাম ‘বারোয়ারি সময়’। লন্ডন এক্সপো ২০১৩, মালয়েশিয়া গার্মেন্টস এক্সপো ২০১৩, ইন্ডিয়া টেক্সটাইল এক্সপো ২০১৭, প্রধানমন্ত্রীরর সফর সঙ্গী হয়ে ৭০ তম ও ৭১ তম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান, আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর বৈঠক সহ মোট ১৫/১৬ দেশ টি নিউজ কাভারেজের জন্যে বিদেশ ভ্রমণ!
তিনি যেসব আওয়ার্ড পেয়েছেন তার মধ্যে এনবিআর অ্যাওয়ার্ড ২০১৭, সমধারা অ্যাওয়ার্ড ২০১৬, বাংলাদেশ ওমেন চেমবার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাওয়ার্ড ২০১৫-১৬ ,এনবিআর সেরা রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড ২০১৭। একশন এইড- ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৮, ভারত থেকে একমাত্র বাংলাদেশি অর্থনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে আইবিসিসি আই-সিডব্লিউবিটি আই অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ পেয়েছেন। তিনি ৯৭ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত বিটিভির তালিকাভুক্ত প্রেজেন্টার ছিলেন।
সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী আওয়ামী লীগ পাবে ৪৩টি। এরপর বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ৪টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে যে কোনো দল বা জোট ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে। সে হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বিকল্পধারাসহ অন্যান্যদের কোনো সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।




