বৃহস্পতিবার ( ১০ জানুয়ারি ) কলকাতা থেকে বন্ধন এক্সপ্রেসে খুলনা রেলস্টেশনে নামেন আকবার হোসেন। গত দেড় বছর ধরে তিনি স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাতায়াত করেন। গত ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে খুলনা- কলকাতা সরাসরি রেল ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

যোগাযোগ শুরু হলে তারপর থেকে তিনি বন্ধন এক্সপ্রেসে যাতায়াত করছেন। খুলনা- কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, খুলনা থেকে ট্রেনে গিয়ে যখন ভারতের চিতপুর ইমিগ্রেশনে নামতে হয় তখন রাত হয়ে যায়। চিতপুর থেকে সহজে অন্যস্থানে যাতায়াত করা যায় না। যাতায়াতের জন্য নির্ভর করতে হয় ট্যাক্সি বা উবারের উপর। বাংলাদেশী যাত্রী দেখে ট্যাক্সি চালকেরা ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণ নেয়। একই কথা বললেন খুলনা থেকে কলকাতায় গমনেচ্ছু নিভা বিশ্বাস। নিভা বিশ্বাসের মতে খুলনা থেকে ট্রেন ছাড়ার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হবে। সহজে নিরাপদে ও ঝামেলামুক্ত অবস্থায কলকাতা যেতে ট্রেন সার্ভিস বেশ আরামদায়ক বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এ ট্রেন সার্ভিস কলকাতার চিতপুর ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ছেড়ে আসে। আর খুলনা স্টেশনে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খুলনা থেকে আবার দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যায় কলকাতা স্টেশনে পৌঁছার কথা সন্ধ্যা ৭টায়। তবে বেশিরভাগ দিনই ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারে না।

খুলনা থেকে যারা কলকাতায় যান তার বেশির ভাগ যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যান চিকিৎসা নিতে। এর একটি বৃহৎ অংশ কলকাতার পিয়ারলেস, রুবী, উডল্যান্ডসহ বাইপাস এলাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেন। আবার খুলনা এলাকার মানুষের আত্মীয় স্বজনেরা ভারতের বিধাননগর, নদীয়া, বারাসাত এলাকায় বসবাস করেন। ভারত সীমান্তে গিয়ে বন্ধন এক্সপ্রেসটি যদি দমদম স্টেশনে দাড়ায় তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়। তাছাড়া শিয়ালদহ স্টেশনে থামলেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তেমন বেগ পেতে হয় না।

খুলনা থেকে কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেসে ভাড়া নেয়া হয় ভ্রমণ কর ৫০০ টাকাসহ ১৫০০ ও ২০০০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে ট্রেণভাড়া পড়ে ১০০০ বা ১৫০০ টাকা। ১৭০ কিলোমিটার পথে এই পরিমাণ ভাড়া অনেক বেশি বলে ভ্রমণকারীরা মনে করেন। খুলনা থেকে ঢাকায় যেতে ট্রেনের এসি সীটে ভাড়া পড়ে ৯০০ টাকার মত। সেক্ষেত্রে খুলনা- কলকাতা ভাড়া তুলনামূলকভাবে দ্বিগুনেরও বেশি। তাছাড়া কাঁটা পথে খুলনা থেকে কলকাকায় যেতে খরচ পড়ে ভ্রমণ কর ৫০০ টাকাসহ সবমিলিয়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার মত। এরমধ্যে খুলনা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৪৫ টাকা, বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে বাংরাদেশ ইমিগ্রেশন পর্যন্ত ইজিবাইকের ভাড়া ১০ টাকা, টার্মিনাল চার্জ ৪২ টাকা। এরপর ভ্রমণ কর দিতে হবে ৫০০ টাকা। দু’দেশের ইমিগ্রেশন শেষ করে পেট্রাপোল থেকে বনগাঁ রেলস্টেশন পর্যন্ত অটো ভাড়া ৩০ টাকা। বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত রেলের ভাড়া ২০ রুপি। সেখান থেকে কলকাতা শহরে যেতে খরচ পড়ে ১০০ থেকে দেড়শ রুপি। অথচ বন্ধন এক্সপ্রেসে খরচ পড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।

নিয়মিত ভারতে যাতায়াতকারী জাহিদুর রহমান বলেন, খুলনা- কলকাতা ট্রেন সার্ভিস সচল রাখতে হলে সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। বেনাপোলে বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন শেষ হওয়ার পর যদি ভারতের পারে গিয়ে একইসাথে ইমিগ্রেশন শেষ হয় তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়। যাত্রীদের কাছে থাকা লাগেজ নিয়েই যাত্যেদির নামতে হয়। সেক্ষেত্রে বারবার লাগেজ টানাটানির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ খুলনা থেকে ছেড়ে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছে রাত ৮টায় বা তারও পরে। খুলনা থেকে চিকিৎসা বা ভ্রমণেচ্ছু যাত্রীরা প্রাথমিকভাবে আবাসন সমস্যায় পড়েন। এ রুটের নিয়মিত যাত্রী গৌতম রাহা বলেন, রাত ৭টা বা ৮টায় চিতপুর পৌঁছানোর কারণে কলকাতা বা বাইপাস যেতে আরও রাত হয়। পৌঁছানোর কারণে আবাসিক হোটেল পেতে বেগ পেতে হয়। অনেক চেষ্টা করে বেশি ভাড়া দিয়ে হোটেলে উঠতে হয়। তার মতো একই সমস্যায় পড়েন বন্ধন এক্সপ্রেসে আসা বেশিরভাগ যাত্রী। দিনের বেলা কলকাতায় না পৌঁছলে আবাসিক হোটেলগুলোয় সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে খুলনা থেকে কেউ ট্রেনে আসতে চান না। এছাড়া যশোর ও বেনাপোল স্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, যশোর ও বেনাপোল স্টেশনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেওয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এ রুটে ট্রেন চালু রাখা এমন সব কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে।

খুলনা রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, দু’দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা- কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। কলকাতা গিয়ে অনেক সময় ভালো হোটেল পেতে সমস্যা হয়। বর্তমান সিডিউল অনযায়ী চলাচল করায় যাত্রীরা ভোগান্তির কথা বলছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে খুলনা কলকাতা ট্রেন সার্ভিকে লাভজনক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।