ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামে গণধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূর সঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে দেখা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আজ শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করেন তারা।
ওই গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শারীরিক নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে দেখতে গিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যে ঘটনা (এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) ঘটেছে, এটা যারা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রহসন হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের নামে দেশে যে প্রহসন হয়েছে এটা দেশকে গণতন্ত্রহীনতা এবং অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা ও প্রহসন। জনগণ তা মেনে নেয়নি ও মেনে নেবেও না। নির্বাচনের আগে ও পরে যে ধরনের নৃশংসতা হয়েছে তা ইতিহাসে বিরল।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আ স ম আবদুর রব, আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, বরকতউল্লাহ বুলু, মো: শাহজাহান, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামী সিরাজ উদ্দিনকে মারধর ও চার সন্তানকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। পরে এই ঘটনায় ভূক্কভোগীর স্বামী সিরাজ উদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভিকটিম ওই নারীর অভিযোগ, নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এই কাজ করা হয়েছে বলে জানান ওই নারী।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেছিল, কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে ধানের শীষে ভোট দিয়েছি।’
তবে ধর্ষণের অভিযোগটি নিশ্চিত করলেও এটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঘটনা নয় বলে দাবি করেছেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াস শরীফ।
এরই মধ্যে ধর্ষণের ওই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখনও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ন্যক্কারজনক এ ঘটনার পর গত বুধবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ৩ সদস্যের একটি টিম ও বিকেলে পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এ দিকে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে নোয়াখালী সচেতন ছাত্রসমাজের ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহর মাইজদী টাউনহল মোড়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে।





