একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর প্রার্থীদের উপর হামলা, ভোটে অনিয়ম, ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় শুরু হওয়া গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।

একাদশ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থীদের শপথের বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের ভোট বাতিল চেয়ে পুনর্নির্বাচন দাবিতে স্মারকলিপি দেবে।

জাতীয় সংসদ ভবনে যখন নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হল, তখন পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসল বিএনপি। বৈঠকে শুধু বিএনপি-ই নয়, সারা দেশের ২৯৯ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে দুই রাজনৈতিক জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

জাতীয় সংসদ ভবনে যখন নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হল, তখন পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসল বিএনপি।

সূত্রমতে, প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘ভোট কারচুপি’, ‘কেন্দ্র দখল’, ‘ভোট ডাকাতি’র তথ্য ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ আকারে দেয়া হবে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে। বিদেশি কূটনীতিকদেরও বিষয়গুলো জানানো হবে।

বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলা হবে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানাবে বিএনপি ও শরিকরা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির সিনিয়র নেতারা।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি জোটের। বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের ২৭টি দল মিলে ২৯৯ (এক আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে পেয়েছে মাত্র ৭ আসন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।