একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দলীয়ভাবে মাত্র ৫টি এবং জোটগত মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৭টি আসন পেয়ে স্তম্ভিত বিএনপি। নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর কোনো পথে হাঁটবে বিএনপি, এই নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কারান্তরীণ দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবর্তমানে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ভোটে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা দলটি এখন সংকটের মুখে। ভোটের ফলাফলে মনোবল হারিয়ে দল- জোটের নেতা-কর্মীরা অনেকটা দিশাহারা।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) এই অবস্থায় করণীয় নিয়ে প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, এরপর ২০ দল এবং শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বৈঠক করেছে।

নির্বাচনে অংশ নিয়ে কি পেল, তারও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন নেতাকর্মীরা। অনেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের আগে দেয়া মতামত সামনে আনছেন।

এরই মধ্যে সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের শীর্ষনেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির নেতারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন, এই নির্বাচনে ধানের শীষে যারা বিজয়ী (৫ জন) হয়েছেন, তারা শপথ নিবেন না।

কেন শপথ নিবেন না, বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তার কারণ ব্যাখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি নিজেও বগুড়া-৬ আসনে এবার বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অীধনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। সুতরাং শপথ নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

এ সময় দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে হাঁটারও ইঙ্গিত দেন মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘আমরা পুরোপুরিভাবে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। নতুন করে নির্বাচনের দাবি করেছি। আর সেই দাবি আদায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই করা হবে।’

এমন ভরাডুবির পর দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা খুব বেশি আলোচনা করিনি। যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে, তা আমাদের দলের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি হবে, আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করেই আমরা এগিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যা হবার হয়ে গেছে, এখন কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই। মোদ্দা কথা, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এটা এবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে প্রমাণ হলো।’

এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের ৫ জন বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, বগুড়া-৪ আসনে মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৬ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহেদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আমিনুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুনুর রশিদ।

এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামা থেকে দু’জন বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, সিলেট-২ আসনে মোকাব্বির খান ও মৌলভীবাজার-২ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।