বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে হারলেও হারবে, জিতলেও হারবে, সরকার গঠন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ড. রেজা কিবরিয়া নিজ বাসভবনে বিবিসি বাংলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ও তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় এসব বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, গায়ের জোরে সরকার গঠন করলে এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ সর্বোচ্চ দুই মাস ক্ষমতায় থাকতে পারবে। এরপরই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, এ সরকার জানে না জনগণ তাদের ওপর কতটা ক্ষেপে আছে, একবার জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে, জনগণ সেই প্রতিশোধ নেবে। মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে কতটা আগ্রহী, ৩০ তারিখে ভোট দিতে গেলে বুঝবে। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না।

প্রতিদিন পুলিশ নেতাকর্মীদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০-৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা ভাবছে এভাবে নির্যাতন করলে জনগণ ভয় পেয়ে ভোট দিতে যাবে না। মানুষ ভোটের মাধ্যমেই সেটার জবাব দেবে। ভোটে আওয়ামী লীগ জেতার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

হবিগঞ্জ-১ আসনে কোনো সময় বিএনপি জিততে পারেনি আপনি কীভাবে জিতবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার বাবা ওই এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন, আমার বাবার কাজ দেখে অনেকেই আমাকে ভোট দেবেন, আমাকে একবার সুযোগ দিলে আমি নবীগঞ্জ বাহুবলকে পরিবর্তন করে দেব যা ৫০ বছরেও হয়নি। একটিবার জনগণ সুযোগ দিয়ে দেখুক না, আমি কী করতে পারি।

মওদুদ আহমদের খোলা চিঠি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মিডিয়ার কাছে ৩টি পয়েন্টের আলোকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকায় এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকি অথচ আমি এখনো নিরাপদে কোথাও কোনো গণসংযোগ করতে পারছি না। যেখানেই আমি গণসংযোগ কর্মসূচি দিচ্ছি সেখানেই সরকারদলীয় প্রার্থী কিংবা তার স্ত্রীর পাল্টা কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে যাতে আমি আর সেই ইউনিয়ন বা এলাকায় না যাই।

গতকালও আমি মুছাপুর ইউনিয়নসহ কয়েকটি পথসভায় গণসংযোগ করতে গেলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় পথ আটকে নানা নোংরা ভাষায় উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আমাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন নোংরা ভাষায় স্লোগান দিয়ে আমার বাড়ির সামনে ও আশেপাশের এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনবরত বোমা ও ককটেল বিস্কোরণ ঘটিয়ে যাচ্ছে। যাতে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটারগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ভোটের আগেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনো বিভিন্ন মিথ্যা, সাজানো ও গায়েবি মামলা করে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুধুমাত্র গত সপ্তাহে মামলা করা হয়েছে ৫টি। এর মধ্যে গতকাল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বসুরহাট পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যা শুধুমাত্র আমার নির্বাচনী কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য। এখনো আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন সর্বত্র অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র গত দু-তিন দিনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা চরকাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাহারের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে!

চরকাঁকড়া ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে না পেয়ে তার আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন সিএনজিটি ভেঙ্গে চুরমার করে পুকুরে ফেলে দেয়, চরকাঁকড়া হাবিবুল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির পাশবর্তী এলাকায় ইউনিয়নের যুবদলের সদস্য জসিম উদ্দিনসহ আরো ৫ জনের ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে এবং তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়, বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ডালিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও দরজা-জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে এবং বসুরহাট ৪নং ওয়ার্ডের লেখক হালিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ছেলে রিপনকে আহত করে এবং তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে। সূত্র: মানবজমিন।