একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তবে মনোনয়নবঞ্চিত মিলনের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা দলের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। শুক্রবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই মিলনের সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শনিবার দুপুরে তারা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা মিলনের পক্ষে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
এমনকি শনিবার রাতে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটক লাথি মারেন, ধাক্কা দেন, ইট-পাটকেল ছুড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গুলশানপাড়ায় গুঞ্জন ছড়ায়, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের আবদার রাখতে গিয়ে বাদ দিতে হয়েছে মিলনকে। কারণ শর্মিলার পছন্দের প্রার্থী মালয়েশিয়া প্রবাসী মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রও বিষয়টি জানিয়েছে।
এ নিয়ে মিলনের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, মালয়েশিয়া প্রবাসী মোশাররফ হোসেন এলাকায় অপরিচিত। এলাকার রাজনীতিতে কখনো দেখা যায়নি তাকে। মালয়েশিয়াতে ব্যবসা করেন। থাকেনও সেখানে।
২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। পরে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান এবং জাফিয়া রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার জন্য যান। পরে আর দেশে ফেরেননি।
মালয়েশিয়াতে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোকো। ২৯ জানুয়ারি স্বামীর মরদেহের সঙ্গে দুই মেয়েকে নিয়ে শর্মিলা রহমান দেশে এসেছিলেন। কোকোর মরদেহ দাফনের পর পরের বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের নিয়ে তিনি ফিরে যান মালয়েশিয়ায়। সেই থেকে সেখানেই আছেন।





