একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার পক্ষে দাখিল করা তিনটি আসনের মনোনয়নপত্রই বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে তার প্রার্থিতা বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। দলের পক্ষ থেকে তিনটি আসনে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ফলে ইসির এ সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়লেন তিনি।
অবশ্য ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে খালেদা জিয়ার। কিন্তু দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিতদের নির্বাচন করার পথ যে বন্ধ, তা ইতোমধ্যে আদালতেরই আদেশে এসেছে।
তিন যুগ আগে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তাকে ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন করতে হচ্ছে বিএনপিকে। এই অবস্থাকে ‘দুর্দিন’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায়ও তার সাজার রায়ও হয়।
তখন থেকে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছিলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা।
কিন্তু সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই আদেশে দণ্ডিতদের নির্বাচন অংশ নেওয়া আটকে যায়।
উল্লেখ্য, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আপিল করা হয়।
আজ শনিবার সেই আপিল আবেদনের ওপর নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য ছিল। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিকালে আদেশ দেয়া জন্য পেন্ডিং রেখেছিল ইসি।
মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ১২/১-এর ‘ঘ’ অনুসারে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। সেখানে যেসব সেকশন রয়েছে সেসব কানেকটেড নির্বাচনী আচরণ-সংক্রান্ত।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।





