নির্বাচন এলেই রাজনীতিকদের ‘বৈধ’ সম্পদের পরিমাণ জানা যায়। হলফনামায় দেয়া ওই সব সম্পদের হিসাব করে ইতোমধ্যেই আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া ধনী প্রার্থীদের খোঁজ জানা গেছে। এবার পাওয়া গেলো সবচেয়ে গরীব প্রার্থীর খোঁজ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

রাজশাহী–৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আবু হেনা। দুই বারের সাবেক এই এমপির সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম। তার নিজস্ব কোনো বাড়ি ও গাড়ি নেই, এমনকি হাতে নগদ কোনো অর্থও নেই! তিনি জানিয়েছেন, দানের কিছু টাকা এবং ব্যাংকে জমানো টাকা নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, আবু হেনার সম্পদের পরিমাণই সবচেয়ে কম। তার হলফনামায় দেখা গেছে, ব্যাংকে জমানো ২০ লাখ আর দানের ৭ লাখ টাকা নিয়েই এবার নির্বাচনের মাঠে নামছেন তিনি। এদিকে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বর্তমান সাংসদ এনামুল হক। স্থানীয়রা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

তবে আবু হেনা বিপুল অর্থসম্পদের মালিক বলেই জানতেন বাগমারার লোকজন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে প্রথম নির্বাচনে এসে বিপুল টাকা খরচ করেন বলে এলাকায় শোনা যায়। তখন হলফনামার প্রচলন ছিল না বলে আবু হেনার তখনকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে আবু হেনা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেই ওই সময় তার ‘বিপুল সম্পদ’ আছে বলে প্রচার করা হয়েছিল।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, আবু হেনার বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি আয়ের সমুদয় টাকা ব্যয়ও করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী এনামুল হকের বার্ষিক আয় ৫৫ লাখ, যা তার সম্পদের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি। এর মধ্যে এনামুল ব্যয় করেন ৪০ লাখ টাকা। এবারের নির্বাচনে আবু হেনা ব্যাংকে জমানো ২০ লাখ এবং দানের ৭ লাখ টাকা নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। দানের টাকা আসবে তার ভাতিজা আক্তারুল আলম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুস সামাদের কাছ থেকে। তারা উভয়ই বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।

হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তার হাতে নগদ কোনো টাকা নেই। ঢাকায় বসবাস করলেও সেখানে নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই বলে উল্লেখ করেছেন। আবু হেনা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজনীতি করি দেশবাসী ও এলাকার লোকজনের জন্য। তাদের জন্যই ঢাকার বাড়ি–গাড়ি সব বিক্রি করেছি।’

সম্পদ বলতে হলফ নামায় উঠিয়েছেন মাত্র ১২ হাজার টাকার মুঠোফোন, ১৮ হাজার টাকার একটি টেলিভিশন। সেই সঙ্গে ১৯৬৩ সালে পাওয়া ১০ হাজার টাকার স্বর্ণ। এছাড়া জন্মস্থান বাগমারার যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলায় একটি বাড়ি এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া রাজশাহী নগরে তিন কাঠা জমির কথাও উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সারাদেশে বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে। তার মধ্যে আবু হেনাও একজন।

জানা যায়, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান আবু হেনা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ওই বছর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুরকে। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর বিএনপির সংস্কারপন্থীতে ভিড়েন আবু হেনা। এরপর জঙ্গিবাদ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।