আত্মহত্যা কোন প্রতিবাদ নয় এটি একটি অপরাধ। সারাদেশে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার ঘটনা অহরহ ঘটছে । আজ এমনি একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে । জানা গেছে স্কুলে নিজের চোখের সামনে বাবার অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

করেছে ভিকারুননিসা স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী।সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।

আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে অরিত্রি তার মাকে বলেছিল, মা এ লজ্জা নিয়ে আমি বাঁচতে চাই না।অরিত্রির বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এজন্য অরিত্রির মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ।

তাদের ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে অরিত্রি আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়।

এর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী।

এদিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়া এবং স্কুলে ডেকে বাবা-মাকে অপমান করায় ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস।তিনি দেশবাসী ও ছাত্রীর বাবা-মায়ের প্রতি ক্ষমা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় স্কুলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের একজন ছাত্রীর মৃত্যু হল- সে জন্য আমরা সবাই ক্ষমা প্রার্থী। ছাত্রীর বাবা-মায়ের কাছেও আমি ক্ষমা চাচ্ছি।