মাত্র ৬০ হাজার টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেড়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে দুই শিশুর মা রশিদা। অসুস্থ রশিদার বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মন্ডলের ভিটা গ্রামে। রশিদা বর্তমানে খুবই অসুস্থ হয়ে তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করে ডুকরে ডুকরে কাঁদে! রশিদার একেসাথে পিত্তথলি ও পিত্তনলিতে পাথর হয়েছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কুড়িগ্রামের চিকিৎসকরা পিত্তথলির পাথরের অপারেশন করার সাহস পেলেও পিত্তনলির পাথর অপারেশনের সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা যায়। চিকিৎসকরা অসুস্থ রশিদাকে রংপুরে গিয়ে অপারেশনটি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, রোগটি স্পর্শকাতর ও বিপদজনক জায়গায় হওয়ায় চিকিৎসক আজ থেকে প্রায় ৭ মাস আগে অপারেশন করতে বলেছিল।
এদিকে চিকিৎসক আরও আশংকা প্রকাশ করে বলেন অন্তত পিত্তনলীর অপারেশন না করতে পারলে পিত্তনলী ফুঁটো হয়ে যেতে পারে। এবং দু’টো অপারেশনের জন্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানানো হয়। কিন্তু যেখানে দরিদ্র রশিদার স্বামী দু’বেলা দু-মুঠো ভাত জোগাড় করতেই হিমসিম খায় সেখানে ৬০ হাজার টাকা যোগাড় করা প্রায় স্বপ্নের মতোই ব্যাপার।
আর তাইতো অসহায়ত্বকে সম্বল করে আল্লাহ পাকের উপর সবকিছুই ছেড়ে দিয়ে নিরবে নিভৃতে কাঁদেন রশিদার পরিবার। আর তাদের পক্ষে কাঁদা ছাড়া আর কি ই বা করার ই আছে?
পিত্তথলি ও পিত্তনলির পাথরের অপারেশন না করায় ও নিয়মিত ঔষুধ খেতে না পারায় পেটের তীব্র ব্যাথায় পাগলের মতো বিছানায় ছটফট করে কাটায় রশিদা। পেটের ব্যাথা উঠলে তার চিৎকার ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার আকাশ বাতাস।
রশিদা চোখের পানি মুছতে মুছতে খুব কষ্ট করে এ প্রতিবেদককে বলেন, বাঁচার আশা ছাড়ি দিচং! পিত্তথলি ও পিত্তনলির পাথরের কারণে সারাদিন যন্ত্রনা করে। এখন কয়েকদিন থাকি বেশি হইছে। সহ্য করবের পাংনা। এতো কষ্টের চেয়ে মোর মরণ ভালো!
তিনি আরও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন মুই মরলে মোর অবুঝ ছওয়া (বাচ্চা) দুই টার কি হবে? ছওয়া (বাচ্চা) দুইটার জন্য বাঁচপার চাং। তোমরা দয়া করি মোক বাঁচান। সবার কাছে অনুরোধ মোক তোমরা সাহায্য করো। মুই মরলে মোর মাসুম বাচ্চা দুইটা যে এতিম হবে!
রশিদার দুই শিশু মারুফ ও মারুফার এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তারা অঝরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমাদের মা’কে আপনারা বাঁচান। আমাদের মা সারাদিন মন খারাপ করি থাকে, খালি কাঁদে, ব্যাথায় চিৎকার করে, ঠিকমতো কথা বলে না কিছু খেতে পারে না। আপনারা আমাদের মাকে বাঁচান।
প্রতিবেদকের দু’টি কথাঃ আমি অসুস্থ রশিদার ও তার বাচ্চাদের করুন আকুতি শুনে অপারেশন করানোর চেষ্টা করছি। বর্তমানে রশিদাকে আমি আমার বাড়িতে রেখেছি।
আগামী ৬ অক্টোবর শনিবার রশিদার অপারেশনের জন্য রংপুরে নিয়ে যাবো। কিন্তু অপারেশনে তো প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাগবে। এ ক্ষেত্রে আমি দেশ বিদেশের সকল হৃদয়বার ও বৃত্তবান মানুষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, মাসুম বাচ্চা দুটোর মাকে বাঁচাতে আসুন যে যার অবস্থান থেকে সামর্থমত এগিয়ে আসি। জয় হোক মানবতার, শিশুদুটো ফিরে পাক তাদের সুস্থ মাকে।
রশিদার পাশে দাড়াতে তার ব্যাক্তিগত হিসাব নং- ০২০০০১২৫২৬৩৯৭, হিসাবের নাম- রশিদা বেগম, ব্যাংকের নাম- অগ্রণী বাংক লিমিটেড, শাখার নাম- ভিতরবন্দ হাট শাখা, কুড়িগ্রাম।
আরও তথ্য ও ইমো, ভাইবারে ভিডিও কলে রশিদার সাথে কথা বলতে আমাদের ষ্টাফ রিপোর্টার প্রভাষক ফয়সাল শামীম- ০১৭১৩২০০০৯১





