মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার ডাক নাম ‘কৌশিক’। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তিনি একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও তিনি এশিয়া একাদশের একদিনের আন্তর্জাতিক দলে খেলেছেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস বলার ও সেরা অধিনায়ক।

তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে মাশরাফির জন্য ভোটও চেয়েছিলেন তিনি।

হঠাত্ করেই গত এপ্রিল মাসে এমন ঘোষণা দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এরপর গত ৪ অক্টোবর দেশব্যাপী ৪র্থ উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লোহাগড়া উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন।

সেখানে তিনি মাশরাফিকে নড়াইলের বড় সম্পদ উল্লেখ করে তার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া চান। এরপর থেকেই জনমনে তৈরি হয়েছে কিছু প্রশ্নের। হাটে মাঠে, চায়ের দোকানে সর্বত্র চলছে গুঞ্জন।

তাহলে সত্যিই এবার নড়াইলের এমপি প্রার্থী হচ্ছেন জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, জনপ্রিয়তম ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মাশরাফি বিন মুর্তজা?

প্রধানমন্ত্রী তার জন্য দোয়া চাইলেন কেন? এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে নড়াইলের সর্বত্র চলছে জল্পনা-কল্পনা। এমনকি নড়াইলের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন দেশসেরা ক্রিকেট তারকা মাশরাফি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাশরাফির বাড়িতে ভীড় করতে থাকে।

মাশরাফিকে ঘিরে ছাত্রলীগের একটি অংশ সার্বক্ষণিক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নড়াইল-০২ আসনে মাশরাফি কি সত্যিই প্রার্থী হচ্ছেন এটি নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন খোদ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও।

স্থানীয় জানা গেছে, তার (মাশরাফি) কাছ থেকে ভালোবাসা কিংবা সহায়তা পাননি এমন অসহায় মানুষের সংখ্যা বিরল। তাইতো তিনি আত্মমানবতার সেবা ও ক্রীড়ার উন্নয়নে গড়ে তুলেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’।

স্পন্সর জোগাড় করে ক্রিকেট, ফুটবল ভলিবলের জন্য ৩ বছরের কোর্স করাচ্ছেন, স্পেশাল জিম তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছেন। দরিদ্র মানুষের জন্য অ্যাম্বুলেস, স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করেছেন, নিজের বিজ্ঞাপনের টাকা দিয়ে চলছে নড়াইলবাসীর সেবা।

এসব মাশরাফি তার একান্ত নিজস্ব প্রচেষ্টায় করেন, কোনো দলীয় কিংবা সরকারী সহায়তা ছাড়াই। যদিও দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নড়াইল উন্নয়নে তার চিন্তাচেতনা সবার থেকে আলাদা। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক বর্তমান রাজনীতিতে নামলে একটি পক্ষে গিয়ে তার ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবে এমনও মনে করেন তার ভক্তরা।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড.কাজী বশিরুল হক বলেন, ‘মাশরাফি তো কখনোই নির্বাচনে আসার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি,

সে ইতিপূর্বে যেটা বলেছে সেটা হলো, প্রধানমন্ত্রী আমাকে খুবই ভালোবাসেন, উনি যদি নির্বাচনের মাঠে নামতে বলেন তাহলে আমার নামতে হতে পারে। মাশরাফি নির্বাচিত হলে বিশ্বকাপে আমাদের একজন এমপি খেলবে এটাতো ভালোই হবে।’

নড়াইল-০২ আসনের প্রার্থী এড, সৈয়দ আইয়ুব আলী জানান, ‘মাশরাফি সবার উপরে, নেত্রী তাকে মনোনয়ন দিলে আমরা সবাই ঝাপিয়ে পড়ব।

কিন্তু আমর মনে হয় তিনি অসুস্থ তাই প্রধানমন্ত্রী তার জন্য দোয়া চেয়েছেন, এখানে নির্বাচনের কোনো ইঙ্গিত নাই।’

নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল-০২ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী নিজামউদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাশরাফির অসুন্থতার কারনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, এখানে তার প্রার্থীতার ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি। এগুলো সবই অতিউৎসাহী লোকের গুজব।’

মাশরাফিকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে কি না এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯ তারিখে ঢাকা থেকে ফিরে এসে পরিস্কার করতে পারব।’

মাশরাফির সঙ্গে রাজনীতি বিষয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন করা হলে তিনি কখনোই রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখিয়ে বরাবরের মতো বলেন, ‘আগে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে চাই, তারপর রাজনীতি’।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরে এ ব্যাপারে মাশরাফির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নড়াইলের এখনকার সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

ছেলের সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বাবা গোলাম মোর্তজা স্বপন বলেন, ‘মাশরাফি কিংবা আমরা কখনোই নির্বাচন নিয়ে ভাবিনি, আমরা কোথাও আগ্রহ প্রকাশ করিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী যদি চায় তার চাওয়া ফেরত দেওয়াতো সম্ভব নয়, জানিনা মাশরাফি কী করবে। ‘